সুনামগঞ্জে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাই, ধনু নদীসহ জেলার সব নদ-নদী ও হাওরে দিন দিন পানি বাড়ছে।
রোববার (১ জুন) জানা গেছে, মেঘালয়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা-চিলাই নদী, ছাতক উপজেলার চেলা ও পিয়াইন নদী, মধ্যনগর উপজেলার সোমেশ্বরী, তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, মাহারাম, পাটলাই ও বৌলাই নদী, জামালগঞ্জের সুরমার ও রক্তি নদী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মরা যাদুকাটা নদীতে বেগে পাহাড়ি ঢল নামায় জেলার নিম্নাঞ্চলে বাড়ছে পানি।
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু গ্রাম। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই-শাল্লাসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বাড়ছে।
আগামী দু’দিন ভারী থেকে অতিভারী ও পরবর্তী দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, মধ্যনগর উপজেলার নদী ও হাওরের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো ঝড়ো হাওয়া ও ঢেউয়ের আঘাতের মুখে পড়েছে। হাওরগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হচ্ছে। পানির চাপে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বড়দল নতুনহাটি গ্রামের পাশের বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে মাঝারি ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে জনজীবনে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার সব নদীর পানি বাড়ছে। শ্রমজীবী লোকজন পড়েছেন বিপাকে।
রিকশাচালক মাসুক মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও বাতাসের জন্য তার রিকশা চালাতে সমস্যা হচ্ছে। যাত্রী চলাচল কমে গেছে, তেমন কোনো ইনকাম নাই। অন্য সময় থেকে এই কয়েক দিনে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন তারা।
জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৭১ মিলিমিটার, ছাতকে ৬৭ মিলিমিটার, লাউড়েরগড়ে ৬৯ দশমিক ০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার নয়া দিগন্তকে মোবাইল ফোনে জানান, ‘সামনে বর্ষার আগমনে এ সময় কিছুটা বৃষ্টি হবেই। পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়লেও এখনো বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘এখনো বন্যার তেমন আভাস নেই। বন্যা হলে বন্যা মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতির আছে। জেলার সব উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্র তাৎক্ষণিক খুলে দেয়া হবে।’



