কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আব্দুল খালেক আলতু মিয়া নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে কয়েকটি গ্রামের ৪০০ বিঘা জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শতাধিক কৃষকের কোটি টাকার ফসল এখন পানির নিচে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি এলাকাবাসীর।
উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাগারচর বালুয়াকান্দা বাইতের বন নামক মাঠে চার বছর যাবত এ জলাবদ্ধতা হয়ে রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হোসেন্দী-মঠখোলা সড়ক ছুঁই ছুঁই পানি। কোমর পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা। বেশ কয়েকজন কৃষকের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জমির পাশে বসে কেউ কেউ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তাদের বুকফাটা কান্না যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, কয়েকটি গ্রামের ৪০০ বিঘা জমি রয়েছে এই মাঠে। জমিগুলোতে আউশ, আমন, বোরো ধানের ব্যাপক আবাদ হত। এ ছাড়া সবজি ও বিভিন্ন ধরনের রবিশস্যের চাষাবাদ হয়ে থাকে এ জমিগুলোতে। এখানকার একাধিক গ্রামের শতাধিক কৃষক এই জমিগুলোতে বিভিন্ন ফসল ফলনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ আলী, ফজলুর রহমান সহ অনেক কৃষকের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে জমিগুলো জলাবন্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও কোমর পানিও হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি আটকে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক একই জমিতে একাধিকবার ধানের চারা রোপণ করেও বাঁচাতে পারেনি। যেখানে তিনটি ফসল উৎপাদন করা হতো, বর্তমানে এক ফসলই উৎপাদনেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এত কিছুর পরেও সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দফতরে দাবি জানিয়ে এলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষক হাসান আহম্মেদ রমজান বলেন, ‘এই মাঠে আমি এবং আমার পরিবারের ২০ বিঘা জমি রয়েছে। তন্মধ্যে অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক আলতু মিয়া নিজেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি দাবি করে বলেন, ‘কালভার্টের সামনের জমিগুলো আমার, আমি এখানে বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার চাইলে অন্য পাশে আমার জমি রয়েছে সেখান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জায়গা দেবো।’
এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামের শত শত মানুষের কষ্টার্জিত জমিগুলোতে নিয়মিত ফসল উৎপাদনের জন্য জলাবদ্ধতা দূরীকরণে হোসেন্দী-মঠখোলা সড়কের পাশ দিয়ে খামা বিল পর্যন্ত খাল নির্মাণ অথবা কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে কৃষকদের সব সমস্যা নিরসন করা হোক।



