১৭ দেশের ৪৩৬ অতিথির অংশগ্রহণে টঙ্গীতে ৫ দিনব্যাপী জোড় শুরু

প্রথম দিনে দুইজনের মৃত্যু

শূরাঈ নেজামের পাঁচ দিনব্যাপী জোড়ের প্রথম দিনে দেশের চিল্লাধারী মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ১৭টি দেশের ৪৩৬ জন বিদেশী মেহমান ময়দানে এসেছেন।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ওজুখানায় মুসল্লিদের ভিড়
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ওজুখানায় মুসল্লিদের ভিড় |ছবি : নয়া দিগন্ত

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার ফজরের পর আম বয়ানের মাধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শূরাঈ নেজামের আয়োজনে ৫ দিনের জোড়। আগামী মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ জোড় শেষ হবে।

আজ প্রথম দিন পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে আগত দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৭টি দেশের ৪৩৬ জন বিদেশী অতিথি জোড়ে অংশ নিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের শূরাঈ নেজামের গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, বিশ্ব ইজতেমার ৪০ দিন পূর্বে মূলত: জোড় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পাঁচ দিনের জোড় তাবলীগ জামাতের সোনালী ঐতিহ্য। এখান থেকেই সারাবছরের কাজের সঠিক নকশা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়। দাঈদের আমল, দাওয়াত, তারতীব এবং দেশের প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান উপস্থাপন করেন মুরব্বি আলেমরা। যা একজন সাথীর দুনিয়া ও আখেরাতের জিন্দেগি পরিচালনায় দিশা দেয়। জোড়কে সফল করার লক্ষ্যে ময়দানের উত্তর পাশে বিশাল ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অবস্থান নিয়েছেন। ৫ দিন তারা সেখানে অবস্থান করবেন।

তিনি আরো জানান, জোড়ে কেবল ৩ চিল্লা বা তদূর্ধ্ব সময় লাগানো সাথী ও কমপক্ষে ১ চিল্লা সময় লাগানো দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা অংশ নিতে পারেন। এতে জোড়ের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় থাকে।

হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, শুক্রবার বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে বৃহত্তর জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জুমার জামাতে ইমামতি করেন ইজতেমার বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।

জোড়ের প্রথম দিন শুক্রবার বাদ ফজর সম্মিলিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আম (সাবির্ক) বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। কারগুজারি করেন দিল্লির মাওলানা আব্দুর রহমান। বাদ জুমা বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক, বাদ আছর পাকিস্তানের মাওলানা আহমদ বাটলা ও বাদ মাগরিব দিল্লির মাওলানা আব্দুর রহমান।

তিনি জানান, শূরাঈ নেজামের পাঁচ দিনব্যাপী জোড়ের প্রথম দিনে দেশের চিল্লাধারী মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ১৭টি দেশের ৪৩৬ জন বিদেশী মেহমান ময়দানে এসেছেন।

তিনি আরো জানান, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার পর্যন্ত চলমান ৫ দিনের জোড়ে আগত দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন চাঁন মিয়া (৬০)। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানার বগারপাড় এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। চাকরির সুবাদে তিনি নারায়ণগঞ্জের রঘুনাথপুর এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

এর আগে ভোররাতে ইজতেমা ময়দানে ৮০নং খিত্তায় ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান মো: নুর আলম (৮০) নামের এক মুসল্লি। তিনি নোয়াখালী জেলা সদর উপজেলার আন্ডার চর কাজীর তালুক গ্রামের সুলতান আহমাদের ছেলে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইজতেমা ময়দানে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।