জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জে ট্রাক দিয়ে রাস্তা অবরোধ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিরোধী মতের কর্মসূচিতে দফায় দফায় বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলা পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি। এ ধরনের ঘটনার পরিণতি ভালো হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় যুবদল ও ছাত্রদল পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হামলার রাজনীতি অনুসরণ করছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এ ধরনের নৃশংস ও বর্বর রাজনীতি জনগণ কখনো মেনে নেবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি দলীয়করণের সব সীমা অতিক্রম করছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে তারা একদলীয় শাসনের পথে হাঁটছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানেও দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর ফলাফল শুভ হবে না।’
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় জনগণই এর জবাব দিতে বাধ্য হবে।’
তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর জামায়াতের শূরা বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন—জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া বৈঠকে মহানগর জামায়াতের শূরা সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ সিলেটে দফায় দফায় এনসিপির ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব ঘটনার নিন্দা জানান।
একই সাথে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করা, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।



