পানছড়িতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতাকে গুলি করে হত্যা

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (গণতান্ত্রিক) এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

Location :

Panchhari
নিহত নীতিদত্ত চাকমা (৫৮)
নিহত নীতিদত্ত চাকমা (৫৮) |নয়া দিগন্ত

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (গণতান্ত্রিক) এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মানিক্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নীতিদত্ত চাকমা (৫৮) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পানছড়ি উপজেলা সংগঠক।

স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার মানিক্যপাড়ায় একটি চায়ের দোকানে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সংগঠক নীতিদত্ত চাকমা পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি মেলা সম্পর্কে স্থানীয় লোকদের সাথে আলোচনা করতেছিলেন। এসময় মুখে কাপড় বাধা অবস্থায় হামলাকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে নীতিদত্ত চাকমাকে গুলি করে রাবার ড্যাম এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। আক্রমণকারীরা ইউপিডিএফ (মূল) দলের সদস্য হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

বুকে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত নীতিদত্ত চাকমাকে সংগঠনের কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পানছড়ি হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি শহরের পার্ক সাইড হাসপাতালে নেন। সেখানেই বেলা পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নীতিদত্ত চাকমা পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের বর্ন চাকমার ছেলে। বর্তমানে সে একই উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্মা পাড়ায় বসবাস করতেন।

এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফকে (প্রসীত গ্রুপ) দায়ী করেন। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অপরদিকে, এ দাবি অস্বীকার করে ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজ দলীয় অস্ত্রধারীর গুলিতে নীতিদত্ত চাকমা নিহত হয়েছেন। এতে ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, সংবাদ জানার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছায়। এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ আসে নাই। মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রয়েছে। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।