ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ১১ দিনে তিন শিশু মারা গেছে। এসময়ে ভর্তি হয়েছে ১০৫ শিশু।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি আলাদা হাম কর্নার ও মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে। তারপরও কমছে না রোগীর চাপ।
শিশু বিভাগের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯ শিশু চিকিৎসাধীন। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় এক বিছানায় দুই শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাম আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীর সথেও রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। রোগীর হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শেই এ রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
মমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘টিকাদানে ঘাটতিই হামের প্রকোপ বাড়ার প্রধান কারণ। রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বেড়েছে। প্রয়োজনে আইসোলেশন সুবিধা বাড়ানো হবে।’
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড ফিভার ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। একই সময় শিশুদের টিকা দিতে এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


