সিলেটে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত অন্তত ২০

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন, সকাল ৭টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন এবং দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল শাহগলী বাজারের পূর্ব পাশে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন
সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন |নয়া দিগন্ত

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন, সকাল ৭টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন এবং দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল শাহগলী বাজারের পূর্ব পাশে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

ওসমানীনগরে দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের বাসিন্দা এম মজিবর রহমান (৫৫) ও ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউপির কাপনখালপার গ্রামের বাসিন্দা বকুল রবিদাস (২৬)।

এ ঘটনায় উভয় বাসের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— সিলেটের জালালাবাদ থানার রবি মিয়ার ছেলে মুশাহিদ (৩৫), সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার আলামিন (৩৪), নরসিংদীর বেলাব থানার ফারুক (৩৮), একই এলাকার মেহেদী হাসানসহ অজ্ঞাতনামা আরো আটজন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোরশেদুল হাসান ভুঁইয়া।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দয়ামীর মাদরাসার সামনে এলে সিলেট থেকে যাওয়া শ্যামলী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় এনা বাসের পেছনে থাকা আরেকটি বাসও সংঘর্ষের কবলে পড়ে। খবর পেয়ে ওসমানীনগরের তাজপুর ফায়ার সার্ভিস, থানা ও হাইওয়ে পুলিশ এসে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

এদিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী এনা পরিবহনের সাথে একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ ভ্যানের চালক রাকিব হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাস চালকসহ আহত হয়েছেন আটজন।

নিহত রাকিব হোসেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বেগারিতলা বাজার এলাকার লেয়াকত হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইরগাঁও-আলমপুর সড়কে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী এনা পরিবহনেরে একটি এসি বাসের সাথে একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপ চালক রাকিব ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় বাস ও পিকআপের অন্তত নয় থেকে ১০ জন যাত্রী বিভিন্নভাবে আহত হন। গুরুতর আহত দু’জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে এনা বাসের চালকও রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনায় পিকআপটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এনা পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের একটি ছোট খালে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর দু’টি গাড়িই হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ছাতকের বুড়াইরগাঁও এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও এনা পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

অপরদিকে একইদিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের শাহগলী বাজারের পূর্ব পাশে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জুবায়ের আহমদ (৯) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত জুবায়ের আহমদ বারহাল ইউনিয়নের বোরহানপুর গ্রামের তকু মিয়া কবিরের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল জুবায়েরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল আরোহী তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ফোনটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মোবাইলফোনের সূত্র ধরে ঘাতক মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’