১০ দলীয় জোট আগামীর সরকার গঠন করবে : শাহজাহান চৌধুরী

আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করেছে। মিথ্যা মামলা, গণগ্রেফতার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয় ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

Location :

Lohagara
মজলুমদের মিলনমেলা
মজলুমদের মিলনমেলা |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, ‘জনগণের প্রত্যাশিত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে সারা দেশে দাড়িপাল্লার পক্ষে জোয়ার উঠেছে। আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখবেন, দেশের যেখানেই আমিরে জামায়াত যাচ্ছেন, হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন।’

এ সময় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘অনেক ত্যাগের পর আজ আমরা এ পর্যায়ে পৌঁছেছি, সুতরাং কোনো অপশক্তি, কোনো ফ্যাসিস্ট, কোনো জালিম আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। ১০ দলীয় জোট আগামীর সরকার গঠন করবে।’

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন তিনি।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আঁকড়ে ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মাধ্যমে আজ দেশ একটি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। কালেমার উজ্জীবিত পতাকাকে আবারো ধূলিসাৎ করে দেয়ার জন্য বারবার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সারা বাংলাদেশে একটি আওয়াজ। সবাইকে দেখেছি, ‘এবার আমরা জামায়াতে ইসলামীকে দেখতে চাই’। হাসনাত, সারজিস, নাহিদ জামায়াতের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আগামী দিনে যে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে সেটা দেশের মানুষের ত্যাগ ও ঐক্যতেই সম্ভব।’

এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে আমাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। এই অন্যায়-অবিচারের জবাব দিতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করেছে। মিথ্যা মামলা, গণগ্রেফতার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয় ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তবে আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না, আমরা চাই ন্যায়বিচার ও ইনসাফ। সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো জনগণের রায়ের মাধ্যমে জালিম শাসনের অবসান ঘটানো।’

চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শাসনামলে ইসলামী আন্দোলনের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, রাতের আঁধারে গ্রেফতার ও বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেশকে একটি ভয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমেই এই নির্যাতনের রাজনীতির স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। দেশের মানুষ আজ সত্য উপলব্ধি করেছে। জুলুমের শাসন আর চলতে পারে না। আগামী নির্বাচন হবে জুলুম ও ইনসাফের মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই।’

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ১০ দলীয় জোটের পক্ষে গণসংযোগ জোরদার করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আবসার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিক আহমদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা নুর হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসান, অ্যাডভোকেট মোজাফফর আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা বজল আহমেদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিক, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার ও সাবেক ছাত্রনেতা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।