বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জনগণের সার্বজনীন আন্দোলন ছিল। জুলাই কোনো একক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। দেশের আপামর ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন। জুলাই গণআন্দোলনে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল সমাজ বদলাবে, নতুন বাংলাদেশ হবে, নতুন রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। এ কারণে দেশবাসী হতাশ হচ্ছেন।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ছয়টি মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। ৩৩টি রাজনৈতিক দল ৭২টি বৈঠকের পর ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাব দেয়। নয় মাসব্যাপী ৭২টি বৈঠকে ৮৪টি বিষয়ে সংস্কারের ব্যাপারে সবাই একমত হয়। সংসদ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট হয়। অথচ সরকারি দল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন না। সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলছে, এর মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি লুকিয়ে রয়েছে।’
নোট অব ডিসেন্টের সংস্কারগুলো বাদ দিয়ে বিএনপি অন্য সংস্কার মানতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবীর।
এছাড়া আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শরিফ সাইদুর রহমান, এনসিপির যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোস্তার আলী, যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের প্রমুখ।
সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস ও দপ্তর সেক্রেটারি নুর ই-আলী নুর মামুন।



