ফখরুল ইসলাম

‘বিএনপি গণভোটের রায় বাতিল করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে’

‘এদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবে না। নব্য ফ্যাসিবাদীদেরও অতীতের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে ছাত্র-জনতা রাজপথে রয়েছে।’

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল |নয়া দিগন্ত

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে এবং গণভোটের রায় বাতিল করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের রাজনীতি শুরু করেছে। নৃশংস ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিয়ে তারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাদ আসর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণমিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে ব্যর্থ সরকার উল্টো জনগণের সাথে মশকরা করছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়াসহ নিত্যপণের দাম হু হু করে বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন এমপিকে নাজেহাল করেছে, তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে গেলে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থানার ভেতরে পুলিশের সামনে নৃশংসভাবে হামলা করেছে। চট্টগ্রামে ছাত্রদল একজন ছাত্রের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করেছে। এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবে না। নব্য ফ্যাসিবাদীদেরও অতীতের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে ছাত্র-জনতা রাজপথে রয়েছে।’

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে একটি গণমিছিল বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। গণমিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১১ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২৪’র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি আশা করেছিল এই সরকার হয়তো আর ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে না। কিন্তু বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। দেশ পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

তারা আরো বলেন, একজন নির্বাচিত এমপিকেও এই সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারে পৃষ্টপোষকতায় ছাত্রদলকে পতিত ছাত্রলীগের কায়দায় সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থানার ভেতরে ডাকসুর প্রতিনিধিদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তাদের হাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরাও রেহাই পায়নি। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রামদা হাতে নিয়ে ছাত্রশিবির নেতার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। সারাদেশে ছাত্রদল ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বক্তারা আরো বলেন, সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হবে না। অথচ আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ভিসি নয়, সকল পদে দলীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব সৃষ্টি করে সরিয়ে দিয়ে দলীয় বিবেচনায় একজন ঋণখেলাপী গার্মেন্টস ম্যানেজারকে গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিরোধী মতের কর্মকর্তাদের বদলি করে দলীয় অযোগ্য কর্মীদের পদায়ন করা হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় লোক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে লুটপাটের পথ খুলে দেয়া হয়েছে। সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানির সর্বোচ্চ মজুদ রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা যখন প্রশ্ন করেন, তাহলে পাম্পে তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন কেন? তখন উল্টো বলা হয়, তেল মজুদ ও সঙ্কট সৃষ্টির জন্য নাকি কুচক্রিমহল লাইন দীর্ঘ করছে। এমন বক্তব্য জাতির সাথে মশকরা ছাড়া কিছু নয়।

বক্তারা আরো বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জুলাই সনদের কথা মুখে বললেও কাজ করেন উল্টো। হাসিনাও এভাবে জাতির সাথে প্রতারণা করত। তার পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে বিএনপিকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের অধিকার আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সংগ্রাম চলবেই। রাজপথেই এর সমাধান হবে।