হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরানের (রহ.) মাজার

আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ব্যর্থ খাদেমরা, ডিসির কড়া নির্দেশ

সভায় উপস্থিত প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উভয় মাজারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হিসাব উপস্থাপন করতে পারেননি।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের সুস্পষ্ট হিসাব উপস্থাপন করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট খাদেমরা। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে দুই মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতি মাসে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বুধবার (১০ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে মাজার, মসজিদ ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপস্থিত প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উভয় মাজারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হিসাব উপস্থাপন করতে পারেননি।

Syl-11=6===

সভায় দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম ও বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন, মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া, ওয়াক্ফ এস্টেট কর্মকর্তা, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাসুদ রানা।

সভায় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নন; তারা সমগ্র সিলেটবাসীর গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ। তাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুই মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতি সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যটক সিলেটে আসেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক সেবার ক্ষেত্রে এখনও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

সভায় তিনি মাজারসংলগ্ন মসজিদকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বহুতল মসজিদে রূপান্তর, নারীদের জন্য পৃথক সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং দরগাহ মাদরাসাকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাদরাসার গ্রন্থাগারকে বিরল ও মূল্যবান ইসলামী গ্রন্থের সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায় পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে আগত দর্শনার্থীদের মান্নত, নজর-নিয়াজ, দান-সাদকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হলেও এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া মাজারের বিভিন্ন স্থাপনা ও আয়বর্ধক উৎস থেকেও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ভবিষ্যতে সব আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে প্রশাসনের কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে। জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুই মাজারের উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানো হবে।