জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল থেকে একটি শোক র্যালি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জহির রায়হান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘চরম নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাবরণ সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো প্রতিশোধ পরায়ণ হননি। বরং তিনি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ডাক দিয়ে নিজের রাজনৈতিক মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ব্যক্তিগত সম্পদের মোহ ত্যাগ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, দেশই ছিল তার প্রকৃত ঘর। যার প্রতিফলন দেখা গেছে তার জানাজায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে বেগম জিয়ার মুক্তি অর্জিত হয়েছিল এবং এর মধ্য দিয়েই দেশ এক নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রবেশ করে। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত তার আপসহীন চেতনা ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।’
সভায় প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শীর্ষে উঠে বেগম খালেদা জিয়া দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। তাকে নিয়ে আলোচনা করাই যথেষ্ট নয়; তার দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। ‘বিদেশে বন্ধু আছে, প্রভু নেই’ এই নীতিকে সামনে রেখেই আমাদের আগামীর রাজনীতির শপথ নিতে হবে।’
প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৮২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।’
নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই বেগম জিয়ার দেখানো পথকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
আলোচনা সভা শেষে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং রাজনৈতিক ও মানবিক নীতিবোধে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম আব্দুর রব, প্রক্টর ড. এ কে এম রাশেদুল আলমসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা, জাকসু নেতাকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন।



