ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর শিশু সাবা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল ৮টার দিকে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শিশু সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

Location :

Jhenaidah
নিহত শিশু সাইমা আক্তার সাবা
নিহত শিশু সাইমা আক্তার সাবা |সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো: হেলাল উদ্দীনের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়ার মামলার প্রথম দিনে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী একরামুল আলম ও অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আশরাফ জোয়ার্দ্দার।

আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আগামী ৩ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল ৮টার দিকে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শিশু সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন পুকুরসহ নানা স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও দিনভর শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি।

অবশেষে ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর অনুসন্ধানে নেমে পুলিশ প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে (৩১) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার করে।

ঘটনার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মনোজ কুমার ঘোষ মাত্র ২৭ দিনের মাথায় ৩০/১২/২৫ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। আসামি শান্তনা খাতুন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশু সাবাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

জবানবন্দিতে সান্তনা খাতুন উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়ের সাথে খেলতে গিয়ে দুজনে মারামারি করে। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে সাবার মাথায় আঘাত করে ও শাসন করে শান্তনা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাবা। সারাদিন ঘরের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রেখে রাতে বাইরে ফেলতে গিয়ে শান্তনার গতিবিধি সন্দেহ হলে প্রতিবেশীরা তার বাড়ি তল্লাসী করে সাবার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।