টানা দুই সপ্তাহের ভারী বর্ষণে বাগেরহাটে শহরের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং জোয়ারের পানিতে রাস্তা ও বাজার এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এছাড়া গ্রামীণ পর্যায়ে তলিয়ে গেছে সবজি ও ধানক্ষেত, ভেসে গেছে মাছের ঘের। নদী, খাল ও বিলে অবৈধ নেটা-পাটা ও চায়না জালের কারণে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এছাড়া শহরের ড্রেনগুলোতে পলিথিন, ময়লা আবর্জনায় আটকে থেকে জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হচ্ছে।
শহরের খানজাহান আলী রোড, রেলরোড, বাসাবাটি, সাধনার মোড়, পিটিআই মোড়, সদর থানা, শালতলা, জেলা হাসপাতাল ও পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। পানি না নামায় দুর্ভোগে রয়েছেন রিকশাচালক, দোকানদার, শিক্ষার্থী ও দিনমজুর মানুষেরা।
দুর্ভোগের শিকার মানুষেরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। বারবার অভিযোগ করলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।
খানজাহান পল্লী এলাকার বাসিন্দা মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘হালকা বৃষ্টিতেই আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। আর এবার টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।’
সাধনার মোড় এলাকার সোহাগ আহমেদ বলেন, ‘প্রতি বছরই পানিতে ডুবে থাকি। শহরের ড্রেনগুলোর অবস্থা করুণ। রাস্তাও ভাঙাচোরা। বৃষ্টিতে সবই পানির নিচে চলে গেছে, হেঁটে চলাচলও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’
সদর থানার সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মামুন আহমেদ বলেন, ‘বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় থানার সামনে পানি জমে যায়। তখন খুব প্রয়োজন না হলে কেউ থানায় আসেন না। পুরো শহরের অবস্থাই একরকম।’
বাসাবাটি এলাকার বাসিন্দা সুজন শেখ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ঘরের চারপাশে পানি জমে। এর যেন কোনো শেষ নেই। বাড়িঘর ছেড়ে তো যেতে পারি না, তাই কষ্ট করে থাকতে হয়।’
রিকশাচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা খেটে খাই। আমাদের রোদ-বৃষ্টিতে কিছু হয় না। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। যখন অনেক বৃষ্টি হয় তখন ছাতায়ও মানে না। কাজ ছাড়া মানুষ তেমন বের হয় না। যে দুই-চারজন বের হয়, বৃষ্টিতে ভিজে তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ১০ টাকা বেশি চাই। কেউ দেয়, কেউ দেয় না।’
এদিকে বাগেরহাটের মোংলায় অবস্থিত আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর থেকে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাটে ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকা মোংলা বন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।’
বাগেরহাট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল হক রিজভী বলেন, ‘এই বর্ষায় পৌর এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল তলিয়ে গেছে। ফলে আগের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌরসভার সাড়ে সাত কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।’



