ভবন নির্মাণ কাজে কংক্রিটের সাথে মেডিক্যাল বর্জ্য মিশিয়ে শক্তিশালী বিম তৈরিতে সফল্য দেখিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল তরুণ গবেষক। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) চুয়েট স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার আয়োজিত এসিআই কনক্রিট ফেস্টে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ স্থানও অর্জন করেছে তারা। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় আসে এফআরপি বিমের ধারণা।
গবেষকরা বলছেন, পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা যে প্লাস্টিক বর্জ্য মাটি ও পানিকে দূষিত করছে, সেই বর্জ্যই হতে পারে ভবিষ্যতের নির্মাণ শিল্পের শক্তিশালী উপকরণ। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছেন শাবিপ্রবির তরুণ গবেষকরা। ব্যবহৃত পলিমার পুনঃব্যবহার করে তারা তৈরি করেছেন ফাইবার রিইনফোর্সড পলিমার বা এফআরপি প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্নত কনক্রিট বিম। এ উদ্ভাবন এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে পৌঁছে গেছে।
গবেষকরা জানান, গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে পলিপ্রোপিলিন পলিমার। স্যানিটারি ন্যাপকিন, সার্জিক্যাল মাস্ক ও ডায়াপারসহ চিকিৎসা ও স্যানিটারি বর্জ্যের একটি বড় অংশে থাকা এ উপাদানটি প্রাকৃতিকভাবে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হতে প্রায় ৫০০-৭০০ বছর সময় নেয়। এ দীর্ঘমেয়াদি দূষণের চিত্র দেখেই শাবিপ্রবির গবেষক দলটি প্রশ্ন তোলেন, এ উপাদানকে কি নির্মাণ প্রযুক্তিতে কাজে লাগানো যায়? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই শুরু হয় তাদের গবেষণা।
প্রথমে বর্জ্য থেকে পলিপ্রোপিলিন সংগ্রহ করে কেমিক্যাল ও হট এয়ার ওভেনে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর পলিমারকে নির্দিষ্ট আকারে প্রক্রিয়াজাত করে কনক্রিটের মিশ্রণে যুক্ত করা হয়। সবশেষে স্টিল রেবারের বিকল্প হিসেবে গ্লাস ফাইবার ব্যবহার করে ল্যামিনেশন ও ইনফিউশন পদ্ধতিতে তৈরি হয় চূড়ান্ত এফআরপি বিম।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ বিমের ভার বহন ক্ষমতা প্রচলিত কনক্রিট বিমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এ উদ্ভাবন কেবল প্রকৌশলগতভাবে শক্তিশালী নয়, সামাজিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি পরিবেশে জমে থাকা বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে ভবন, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে টেকসই ও সাশ্রয়ী উপাদানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



