যশোরে কৃষি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

সরকার নির্ধারিত দাম— ডিএপি ২১, টিএসপি ২৭, এমওপি ২০ ও ইউরিয়া ২৭ টাকা কেজি। চাষিদের অভিযোগ, মোশারফ বিক্রি করেন ডিএপি ৩০, টিএসপি ৩২, এমওপি ২৬ ও ইউরিয়া ৩০ টাকা কেজি দরে। অধিকাংশ খুচরা ডিলার বাড়তি দামে বিক্রি করছেন উপজেলা কৃষি অফিসকে ম্যানেজ করে।

এম আইউব, যশোর অফিস

Location :

Jashore
বিভিন্ন রকমের সারের ছবি
বিভিন্ন রকমের সারের ছবি |সংগৃহীত

যশোর সদর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি না করার অভিযোগ উঠেছে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। কৃষি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন তারা দাবি কৃষকদের।

সরেজমিনে, বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কৃষকের সাথে কথা বলে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। সার পাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ সদর উপজেলার প্রায় সব গ্রামের কৃষক। চলতি বোরো আবাদে খুচরা ডিলাররা চাহিদামতো সার দিচ্ছেন না বরং সব ধরনের সারে অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ অধিকাংশ কৃষকের।

সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বাগেরহাট বাজারে কথা বলতেই ১০-১২ জন কৃষক মুহূর্তের মধ্যে ভিড় করেন। তারা জানান, ওই বাজারে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত খুচরা সার ডিলার তুহিন ট্রেডার্সের মালিক মোশারফ কখনোই সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করেন না। তবে, কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশি দিলেই তার কাছ থেকে সার পাওয়া যায়। বেশি দাম নিয়ে কোনো কথা বললে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন মোশারফ। কেবল তাই না, তার ছেলে তুহিন চাষিদের মারতে উদ্ধত হন বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিত চাষিরা। কৃষি অফিসের তদারকির অভাবে এমনটি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছেন, মোশারফের মতো ডিলাররা কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যদের ম্যানেজ করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করেন। প্রকাশ্যে এ ধরনের অনিয়ম করলেও কৃষি অফিস এখন পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ানি বলে সূত্রের দাবি।

কেবল তাই নয়, সদর উপজেলায় ২৮ জন বিসিআইসি ও ২৫ জন বিএডিসির ডিলারের গুদাম পরিদর্শন করে রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করার কথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার। কিন্তু সেটি না করে অজ্ঞাত কারণে ডিলারদের তার অফিসে ডেকে কোনো কিছু যাচাই না করেই স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন।

তেঁতুলিয়া গ্রামের আবুল কাশেম নামে একজন চাষি বলেন, ‘ডিলার মোশারফ স্থানীয় কৃষকের কাছে সার বিক্রি করেন না বললেই চলে। তার কাছে আসা সার তিনি বেশি দামে বাইরে বিক্রি করে দেন। এমন কোনো চাষি নেই যার সাথে মোশারফ ও তার ছেলের ঝগড়া হয়নি। বেশিরভাগ সময় তারা বলেন, সরকার সার দিচ্ছে না। অথচ বেশি দাম দিলেই সার পাওয়া যায় তার কাছে।’

এই অবস্থা কেবল বাগেরহাট বাজারে না। গোয়ালদহ বাজারেও একই অবস্থা দেখা গিয়েছে।

সরকার নির্ধারিত দাম— ডিএপি ২১, টিএসপি ২৭, এমওপি ২০ ও ইউরিয়া ২৭ টাকা কেজি। চাষিদের অভিযোগ, মোশারফ বিক্রি করেন ডিএপি ৩০, টিএসপি ৩২, এমওপি ২৬ ও ইউরিয়া ৩০ টাকা কেজি দরে। অধিকাংশ খুচরা ডিলার বাড়তি দামে বিক্রি করছেন উপজেলা কৃষি অফিসকে ম্যানেজ করে।

এ বিষয়ে ডিলার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কিছু কিছু চাষি আমাদের কাছ থেকে সার কিনে অন্য দোকানে বিক্রি করে। তারাই এ ধরনের অভিযোগ করেছে। আমরা বাইরোটেশনে সব চাষিকে সার দিই।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বোরো আবাদে সারের প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। সার না পাওয়ার অভিযোগ সঠিক না। তারপরও যদি কেউ এমনটি করে থাকে তাহলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’