গাজীপুরের শ্রীপুরে চার বছরের শিশু আনাস খান হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর জেলা ডিবি পুলিশ। প্রেমিকের সাথে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য দেখে ফেলায় ওই শিশুটিকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত শাহিনূর বেগম ওরফে হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে নিখোঁজের তিন দিন পর সোমবার উপজেলার চিনাশুখানিয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি খালে কচুরিপানার নিচ থেকে ওই শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ডিবি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ নভেম্বর সকালে আনাস প্রতিদিনের মতো খেলনা সাইকেল নিয়ে প্রতিবেশী নজরুল মোল্লার বাড়িতে যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নজরুলের স্ত্রী শাহিনূর বেগম ও তার প্রেমিক মোমেন। এ সময় আনাস হঠাৎ ঘরে ঢুকে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থা দেখে ফেললে মোমেন শিশুটির গলা টিপে ধরে। পরে খাটের নিচে থেকে একটি ধারালো কাচি এনে আনাসের ডান চোখে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। এদিকে হত্যার পর আনাসের লাশ বিলে ফেলে গুম করার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ জানায়, শাহিনূর বেগম জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয় এবং হত্যায় ব্যবহৃত কাচিটিও তার রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঘটনায় শিশুর দাদা হাছেন আলী খান শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। একইসাথে আটক শাহিনূর বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামি মোমেনকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত নৃশংস ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। ডিবির টিম দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’



