নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশ না করায় যোসেফ বর্ণ রোজারিও (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের উচ্চ মাধ্যমিকের ফরম পূরণ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে তিনি গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান তার সহপাঠীরা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে নিহতের সহপাঠীরা কলেজের মুল ফটকে ভাঙচুর করাসহ বনপাড়া বাজারে নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এর আগে, একই দিন দুপুরে উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত বর্ণ রোজারিও কালিকাপুর মহল্লার বিপ্লব রোজারিও’র ছোট ছেলে। তিনি বনপাড়া সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
নিহতের সহপাঠী ও স্থানীয়রা জানান, রোববার ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাঁচ শ’ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারশ’ জনই অকৃতকার্য হয়। আর অকৃতকার্যদের মধ্যে বর্ণ রোজারিওসহ মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন শিক্ষকরা। এতে হতাশা ও লজ্জায় বর্ণ রোজারিও বাড়িতে গিয়ে সবার অগোচরে নিজ শোবার ঘরের তীরের সাথে দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ওই শিক্ষার্থীর বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা জানান, শিক্ষকরা পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে ফেইল করিয়ে দেন। পরে পুনঃপরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দেন। কিন্তু ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে অকৃতকার্য ঘোষণা করায় একটি জীবন চীরতরে নিভে গেল। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
এদিকে, ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কলেজের মূল ফটকে ভাঙচুরসহ বনপাড়া বাজারে নাটোর-পাবনা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে বাজারের দু’ পাশেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে শ্লোগান দেন। পরে খবর পেয়ে ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।



