নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতির বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের পর লাশ উদ্ধার, ৬ দিন পর শনাক্ত

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এক যুবককে অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj
অপহৃত যুবক শুভ (বামে) সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রানা (ডানে)
অপহৃত যুবক শুভ (বামে) সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রানা (ডানে) |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এক যুবককে অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অপহরণের পরদিনই ৩০ মার্চ ওই যুবকের লাশ রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হয়। উদ্ধারের সময়কার লাশের ছবি দেখে গতকাল রোববার সকালে পরিবারের লোকজন তা শনাক্ত করেন। গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো: সোহেলের ছেলে। অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমন্ডল, হাত বা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নীলাফুলা জখম ছিল। শরীরের এসব জখম হত্যার পূর্বের নির্যাতনের নির্দেশ করছে বলে জানান তিনি।

লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত অবস্থাতেই রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। তবে, লাশের ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে বলে জানান ওসি সালাউদ্দিন।

এদিকে, গত ১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় শুভর অপহরণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করে আরো ১০ জনকে অভিযুক্ত করেন শুভর মা মাকসুদা বেগম।

সাখাওয়াত ইসলাম রানা ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়া যুবদলের সেই সময়ের ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে।

মামলায় মাকসুদা অভিযোগ করেন, তার বড় ছেলে শুভকে মারধরের পর একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তোলা হয়। ওই ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটিও চালিয়ে যান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। এরপর শুভ কিংবা তার মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সাথে তর্ক হয় শুভর। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তার মা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্যারেজের সামনে সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। তর্কের এক পর্যায়ে ছুরি হাতে রানা ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন শুভ।

তার মা এজাহারে আরো লেখেন, শুভ আগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র মেরামতের কাজ করলেও পরে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের সাথে মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ে। অপরাধ কর্মকাণ্ডেও সে জড়িয়ে পড়েছিল। মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও শুভর সন্ধান দিতে পারেনি।

গতকাল রোববার তদন্তের প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ উদ্ধার হওয়া রূপগঞ্জের অজ্ঞাত লাশর ছবি দেখালে পরিবারের লোকজন তা শুভর বলে শনাক্ত করে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। মামলাটি এখন অপহরণের পর হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হবে বলেও জানান।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের গ্রেফতারেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

যদিও শুভর বাবা মো: সোহেলের অভিযোগ, অপহরণের রাতেই থানা পুলিশের শরনাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। তবে, পুলিশের সহযোগিতা পাননি। মামলাও রেকর্ড করা হয়েছে তিনদিন পর।

সোহেল বলেন, শুরু থেকেই সবার নাম বলছি, কারা তুইল্লা নিয়া গেছে তাদের নামও বলছি। কিন্তু পুলিশ পাত্তা দেয় নাই। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও ধরে নাই। শুরুতেই পুলিশ গুরুত্ব দিলে আমার ছেলেরে হয়তো জীবিত পাইতাম।

তিনি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিও জানান। তবে, তদন্তে কোনো প্রকার অবহেলা ছিল না বলে দাবি করেন ফতুল্লা থানা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, আমি নিজে শুরু থেকে ঘটনাটির আপডেট ফলো রেখেছি। সারাদিন পুলিশ কাজ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ভিক্টিমকে উদ্ধার করা আর কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করা।