মো: ইয়াসির হোসাইন, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর থেকেই ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালটিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন প্রায় শতাধিক রোগী। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেককে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, চতুর্থ তলার পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে ৫০টি শয্যা থাকলেও অধিকাংশই শয্যাই রোগীতে পূর্ণ। অতিরিক্ত রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া পেটব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ মৌসুমি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নতুন রোগী আসায় চাপ কমছে না। বর্তমানে হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ নুরানি আক্তার জানান, গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৫০ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৩০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা: আবু রায়হান বলেন, ‘বর্ষা ও অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট তৈরি হয়েছে। টিউবওয়েলের গোড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দূষিত পানি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ফলেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সময়মতো হাসপাতালে এলে অধিকাংশ রোগী তিন দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ পর্যন্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।’
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কয়েক দিন আগের তীব্র গরমের পর বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সার্বক্ষণিক রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং বেশির ভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।’
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডায়রিয়া প্রতিরোধে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, খাবার ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে, বাইরে খোলা বা বাসি খাবার পরিহার করতে হবে এবং ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হবে।



