পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি বাসায় বসবাস করেও সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যুগ যুগ ধরে ভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে তৎকালীন জাতীয় পার্টি সরকারের সময় উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য আবাসিক ভবন তৈরি করা হয়। পরে ১৯৮৫ সাল থেকে এ বাসভবনগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস শুরু করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়ার অংশ কেটে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার কথা। অথচ এখানে শুভংকরের ফাঁকি হলো সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করলেও অনেক কর্মচারীর সরকারি বাসায় থাকার দাপ্তরিক প্রমাণ রাখা হয়নি। যার ফলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ অর্থ কর্তন না করায় সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া কেউ কেউ বড় পদে চাকরি করে ছোট কর্মচারীদের নামে সরকারি বাসার বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছেন। এ পদ্ধতিতেও সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে সরকারি বাসায় বসবাস করেও সরকারি খাতে কোনো রাজস্ব জমা না দিয়েই অনেকে চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। কেউ কেউ আবার বকেয়া টাকা না দিয়ে মারা যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। আবার অনেকে বাসা ভাড়ার হাজার হাজার টাকা বকেয়া রেখে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেলেও বাসা ভাড়ার বকেয়া টাকা দেয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না।
এভাবে সরকারি বাসা ও ডরমিটরির ভাড়া না দিয়ে চলে যাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর স্মৃতি কনা। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে সরকারি বাসায় বসবাস করলেও বাসাভাড়া বাবদ প্রায় কয়েক লাখ টাকা বকেয়া রেখেছেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্মৃতি কনা জানান, বাসা ভাড়া পরিশোধ না করার তথ্য সঠিক নয়, তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকাও পরিশোধ করে দেবেন।
অপরদিকে উপাধ্যক্ষ সঞ্জিত কুমার সাহা, প্রয়াত শিক্ষক আব্দুল জলিল, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ মো: হুমায়ুন কবির, মাঠ কর্মী হোসনেয়ারা, প্রভাষক জাকির হোসেন, তহশিলদার নজরুল ইসলামসহ আরো অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর কাছে বাসা ভাড়া বাবদ লাখ লাখ টাকা বাকি থাকলেও এ টাকা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি যোগদানের পর বাসা ভাড়া বকেয়ার বিষয়ে জানতে পেরে বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়ার বিষয়ে জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে বকেয়া ভাড়া আদায় করে রাজস্ব খাতে জমার ব্যবস্থা করব।’



