পদ্মাসেতুতে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের যানবাহন চলাচল

মাওয়া টোলপ্লাজা থেকে যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা দিলেও সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে। সেতুর উভয়প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল থাকায় কোনো যানজট ছিল না। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের কোনো দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Munshiganj
পদ্মাসেতুতে বেড়েছে যানবাহন চলাচল
পদ্মাসেতুতে বেড়েছে যানবাহন চলাচল |নয়া দিগন্ত

প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। এসব অঞ্চলের প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো, পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল বাড়লেও টোলপ্লাজায় নেই যানজট।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় শেষ কর্মদিবস সোমবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি মোটরসাইকেলের চাপ ঠেকাতে তাৎক্ষণিক মাওয়া প্রান্তে সাময়িক বুথসহ তিনটি বুথ সচল করে। এতে করে মাওয়া প্রান্তে ১০টি ও জাজিরা প্রান্তে নয়টি টোলবুথসহ উভয়প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সচল রয়েছে।

এদিকে মাওয়া টোলপ্লাজা থেকে যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা দিলেও সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে। সেতুর উভয়প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল থাকায় কোনো যানজট ছিল না। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের কোনো দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।

পদ্মাসেতু দিয়ে মধ্যরাত ১২টা থেকে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ১০ঘন্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১২ হাজার ১৫২টি। এতে করে ১০ ঘন্টায় শুধু মাওয়া প্রান্তেই টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা।

অন্যদিকে ১৬ মার্চ সোমবার ২৪ ঘন্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৭ হাজার ১৮৬টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১১ হাজার ৪৩৭টিসহ উভয়প্রান্ত দিয়ে মোট ২৮ হাজার ৬২৩টি যানবাহন পারাপার করা হয়।এতে মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা।

এটি ঈদপূর্ব গত পাঁচ দিনের মধ্যে টোল আদায়ের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বলে মঙ্গলবার সকালে নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মাসেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয়।

এর আগে পদ্মাসেতুর টোলপ্লাজা দিয়ে ১২ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই ২০ হাজারের নিচে যানবাহন পারাপার হয়েছে। আর রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গ ও ঢাকাগামী বিভিন্ন ধরণের গণপরিবহন পারাপার হলে মাওয়া ও জাজিরাসহ দুই প্রান্ত মিলে প্রায় প্রতিদিনই টোল আদায় হয়েছে সোয়া দুই কোটি থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা হয়ে যানবাহন চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। অন্যান্য দিনের থেকে মঙ্গলবার সকালে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো লম্বা লাইন বা কোনো যানজট নেই। স্বস্তিতেই যাত্রী এবং যানবাহনগুলো পর্যায়ক্রমে দ্রুত টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে।

সোমবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিরবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের গৃহীত সকল প্রস্তুতি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও যথাযথ প্রয়োগের বিষয়গুলো সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলম পিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলম পিপিএম বলেছেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। দুই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আনন্দ নিয়ে যেনো ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যেতে পারেন, সেলক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা আমরা করছি।’

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, মাওয়া টোলপ্লাজায় আসা যানবাহনের বাড়তি চলাচল থাকলেও কোনো যানজট নেই। সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহনগুলো সেতু পার হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই।