টানা ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে উৎসবমুখর শ্রীমঙ্গল

বৃহস্পতিবার বড়দিনের ছুটি, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শ্রীমঙ্গলের শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট বর্তমানে পর্যটককে হাউজফুল। এতে রেস্টুরেন্ট, চা পাতা, মণিপুরি কাপড়ের দোকানসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

এম এ রকিব, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

Location :

Maulvibazar
পর্যটকের ভিড়ে উৎসবমুখর শ্রীমঙ্গল
পর্যটকের ভিড়ে উৎসবমুখর শ্রীমঙ্গল |সংগৃহীত

টানা তিন দিনের ছুটিতে চায়ের রাজধানী খ্যাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক পর্যটক সমাগম ঘটেছে। এ সময় পাশের উপজেলা কমলগঞ্জের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের এ দুটি উপজেলার পর্যটন এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শনে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার বড়দিনের ছুটি, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শ্রীমঙ্গলের শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট বর্তমানে পর্যটককে হাউজফুল। এতে রেস্টুরেন্ট, চা পাতা, মণিপুরি কাপড়ের দোকানসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

হোটেল ও রিসোর্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবর্ষ সমাপনী ছুটি, বড়দিনের ছুটি ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। দীর্ঘ মন্দাভাব কাটিয়ে শ্রীমঙ্গলে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনে খুশি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কয়েক দিন ধরে শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ সবুজ চা বাগান ও প্রকৃতিতে শীত জেঁকে বসেছে। এখানকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। শনিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে পর্যটকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভানুগাছ সড়কসংলগ্ন চা বাগান, মনিপুরি পল্লি, পিছের মুখ, রাধানগর, চা কন্যা ভাস্কর্য ও লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদের গাড়িতে (ছাদখোলা জিপ) পর্যটকদের হইহুল্লোড়। চা বাগানের সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকবাহী বিভিন্ন পরিবহন।

পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকরা প্রাকৃতিক পরিবেশে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠছেন। এ সময় ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতেও ব্যস্ত ছিলেন তারা। এছাড়া চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি খাবার ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে কেনাকাটাও করতে দেখা যায় অনেককে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থেকে বেড়াতে আসা সাংবাদিক জালাল উদ্দিন মনির নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে অনেকবার এসেছি। এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশ আমার ভীষণ ভালো লাগে। তাই বন্ধুদের নিয়ে আবারো এলাম। আমরা বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরেছি। বিশেষ করে, এখানকার বিস্তৃত চা বাগানের পরিবেশ দারুণ। সুযোগ পেলে পরে পরিবার নিয়ে আবার আসব।’

এ সময় তিনি পর্যটকের আধিক্যের সুযোগে টুরিস্ট জিপ বা চাঁদের গাড়ির চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন।

ট্যুর গাইড সুলেমান আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পর্যটকের আগমনে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে রুম বুকিংয়ের জন্য প্রচুর কল আসছে, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী রুম দিতে পারছি না। বড়দিনের ছুটিসহ সাপ্তাহিক ছুটিতে দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বেশ কিছু বিদেশি পর্যটকও এসেছেন।’

বালিশিরা রিসোর্টের ডিরেক্টর রাসেল আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘টানা তিন দিনের ছুটিতে বেশ ভালোই পর্যটক এসেছেন, আমাদের বালিশিরা রিসোর্ট ও নভেম রির্সোটে এ তিন দিন হাউজফুল গেস্ট ছিল। আমরা এখন জানুয়ারি মাসের জন্যও আগাম কক্ষ বুকিং নিচ্ছি।’

পর্যটন সেবা সংস্থার যুগ্ম আহ্বায়ক ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মো: সেলিম আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘দীর্ঘ মন্দার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটক এসেছেন। অতিথিদের স্বাগত জানাতে ও আন্তরিক সেবা প্রদানে আমরা সব সময় প্রস্তুত।’

টুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল হাসান চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আমরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছি। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বেশি থাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘টানা ছুটিতে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ কাজ করছে। এরমধ্যে আমরা টুরিস্ট জিপ বা চাঁদের গাড়ির চালকদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়সহ পর্যটকদের সাথে দুরব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘পর্যটকদের আগমনে চায়ের দেশে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শ্রীমঙ্গলের কোনো হোটেল রিসোর্ট খালি নেই। সেই সাথে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান জমজমাট ব্যবসা করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পর্যটক হয়রানির বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’