জগন্নাথপুরে সেলিম হত্যা মামলায় ৮ আসামি গ্রেফতার

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাঙাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
মৃত সেলিম মিয়া
মৃত সেলিম মিয়া |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সেলিম মিয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে হত্যার পর আসামিপক্ষের অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলার তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও জগন্নাথপুর থানা পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে উত্তর গড়গড়িকান্দি গ্রামে গিয়ে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। বিভিন্ন ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা, আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং খামারের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য চোখে পড়ে।

গত ১০ জুলাই জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়িকান্দি গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন সেলিম মিয়া। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১২ জুলাই নিহতের ভাই মো: ফজলু মিয়া জগন্নাথপুর থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হত্যা। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাঙাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ২৮ জুলাই রাতে আট আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— কাজল মিয়া (৪০), দুলাল মিয়া (৩৯), হিরন মিয়া (৪৫), রাজিক মিয়া (৪১), ফুল মিয়া (৩০), আতিকুর রহমান ওরফে আতিক (৩০), আশিক মিয়া (২৮) এবং রাজু মিয়া (১৯)। সবাই উত্তর গড়গড়িকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে হত্যার পর আসামিপক্ষের দাবি, তাদের অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বসতঘর, খামার ও গোয়ালঘর থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জগন্নাথপুর থানা ও সুনামগঞ্জ আদালতে চারটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মোছা. ফাতেমা বেগম সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৫ জনকে আসামি করে একটি সিআর মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে ঘরের মালামাল ভাঙচুর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল ও গবাদিপশু লুট করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিহত সেলিম মিয়ার স্বজনরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিহতের চাচাতো ভাই বদর উদ্দিন বলেন, ‘সীমানা বিরোধ ও গরু দিয়ে বীজতলা নষ্টের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই সেলিম মিয়াকে হত্যা করা হয়।’

হত্যার পর তারা হাসপাতালে ও থানায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেলিম মিয়া হত্যা মামলার আট আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে দু’টি অভিযোগের তদন্ত চলছে। এর মধ্যে একটি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং অন্যটি জগন্নাথপুর থানা পুলিশ তদন্ত করছে।’

তদন্ত শেষে প্রাপ্ততথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।