সরকারি ইসলামপুর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্ত ও অনুমতিক্রমে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো: জাহাঙ্গীর আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর

Location :

Jamalpur
সভাপতি জোনায়েদ হোসেন সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মিয়া
সভাপতি জোনায়েদ হোসেন সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মিয়া |নয়া দিগন্ত

জামালপুরের সরকারি ইসলামপুর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো: জাহাঙ্গীর আলম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রদল জামালপুর জেলা শাখার অধীনস্থ ইসলামপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জোনায়েদ হোসেন সাব্বির এবং সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মিয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্ত ও অনুমতিক্রমে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো: জাহাঙ্গীর আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, কলেজ ছাত্রাবাসের নতুন রান্নাঘর নির্মাণের জন্য সম্প্রতি পুরাতন রান্নাঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়। পুরাতন রান্নাঘরের টিনসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন ছাত্রদল সভাপতি সাব্বির খান ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বি। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০ হাজার টাকা মূল্যে টিন ও বিভিন্ন মালামাল ছাত্রদলের দুই নেতাকে দিয়ে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একজন শিক্ষক জানান, কলেজের সরকারি মালামাল ক্রয়-বিক্রির ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ মূল্য নির্ধারণ কমিটি গঠনসহ নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করার নিয়ম থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে টিনগুলো ছাত্রদল নেতাদের প্রদান করা হয়েছে।

ছাত্রাবাসের সুপার হাফিজুর রহমান জানান, ছাত্রদল নেতারা টিনসহ পুরাতন মালামালগুলো অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিতে দাবি জানান। পরবর্তীতে তারা আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মালামালগুলো তাদের দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, সরকারি মালামাল বিক্রির নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কলেজ কর্তৃপক্ষ মালামালগুলো ছাত্রদল নেতাদের প্রদান করেছে।

এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, এমনটাই দাবি সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।

অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতি সাব্বির জানান, কলেজ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে নির্ধারিত দামেই রান্নাঘরের মালামালগুলো নিলামের মাধ্যমে নিয়েছি আমরা। তবে দল থেকে অব্যাহতির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি তারা।

এ ব্যাপারে ছাত্রাবাসের সুপার হাফিজুর রহমানের নিকট মোবাইল ফোনে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তবে অ্যাকাডেমিক পরিষদের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত মূল্যে পুরাতন রান্নাঘরের টিন ও মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।’

কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর আহাম্মদ আলী জানান, জরাজীর্ণ রান্নাঘরটির ভাঙ্গাচুড়া মালামাল নেয়ার জন্য ছাত্রদলের দু’জন নেতা আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে ছাত্রাবাস সুপার হাফিজুর রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

তবে যথাযথ প্রক্রিয়াতেই সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু নিলাম বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান প্রফেসর আহাম্মদ আলী।