জেন্ডার বৈষম্যের শিকার নারী-পুরুষ উভয়ই হতে পারে এবং বাল্যবিয়েতে উভয় পক্ষের দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে’ সচেতনতামূলক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে নারীরা সহিংসতার শিকার বেশি হন। সমাজে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের কথাই শোনা হয় না, কারণ তাদের শিক্ষার অভাব আছে। নারীদের অবশ্যই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক (ফরমাল ও ইনফরমাল) শিক্ষা নিতে হবে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা যেমন একজন নারীকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে, তেমনি কর্মময় জীবনেও মূল্যবান (ভ্যালুয়েবল) করে গড়ে তোলে। কিছু শ্রেণির লোক আছে, যারা নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখে। বদ্ধ ঘরে নারী যেন জীবিত থেকেও মৃত। ধর্মের নামে নারীকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া একধরনের অপচেষ্টা ও দুরাচার। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীকে অন্ধকারে রেখে জনগণকে স্বপ্ন দেখালে চলবে না। বিদ্যালয়ে পড়লে সে নিজেকে একটি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। সমাজের প্রত্যেক সেক্টরে দায়িত্বশীলদের উচিত কার্যসম্পাদনের সমস্ত সুযোগ উন্মুক্ত করে দেয়া। প্রত্যেককে একইভাবে শিক্ষিত করতে হবে, তা না হলে টেকসই উন্নয়ন হবে না।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এএসপি হাতিয়া (সার্কেল) মো: নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘সবার জন্য আইনের সুরক্ষা আছে। লিঙ্গবৈষম্য বিষয়ক আইনও আছে। মানুষের মাঝে আসলে ছাড় দেয়ার (স্যাক্রিফাইসিং) মনোভাব না থাকায় লিঙ্গবৈষম্য বিস্তার লাভ করে। স্যাক্রিফাইস করলে এ সকল সহিংসতা রোধ করা অনেকাংশে সম্ভব হয়। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে সমাজের জন্য একটি অভিশাপ। এ সহিংসতা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিকসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) বা কোনো লিঙ্গবৈষম্য বাংলাদেশ সরকার চায় না। কোনোভাবেই যেন এরূপ সহিংসতা না হয়, সে জন্য থানা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো লোক এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সহিংসতা রোধে প্রয়োজনে ৯৯৯-এ ফোন করে জরুরি নাগরিক সেবাও পেতে পারেন। অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এলেও এ ধরনের ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পেতে পারেন।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাছেদ সবুজ, এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী ইমদাদুল হক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ।



