সৈয়দপুরে জাপা প্রার্থীর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হাতাহাতি

ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের টাকা বণ্টনকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী নেত্রীসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের চন্ডিবাজারে লাঙ্গল প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদখানা ইউনিয়ন সভাপতি শফিকুল ইসলাম (বয়লার) প্রতিদিনের মতো নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও কাঠগাড়ি এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মশিয়ার অভিযোগ করেন, ভোটারদের তুলনায় কর্মীদের কম টাকা দেয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কর্মীরাই বেশি পরিশ্রম করলেও দুই দিন ধরে তাদের টাকা দেয়া হচ্ছে না এবং তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম মশিয়ারকে ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মশিয়ারের গলা চেপে ধরা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমেনা বেগম এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মমেনা বেগম বলেন, “প্রার্থী নিয়মিত কর্মী ও ভোটারদের জন্য টাকা দেন। কিন্তু ইউনিয়ন সভাপতি প্রতিদিনের টাকা নিয়মিত না দিয়ে টালবাহানা করেন। ভোটারদের ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও কর্মীদের মাত্র ৩০০ টাকা দেওয়া হয়। তাও আবার বকেয়া রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। একপর্যায়ে মশিয়ারকে চরথাপ্পড় মারা হয় এবং গলা চেপে ধরা হয়।”

এ বিষয়ে চাঁদখানা ইউনিয়ন সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভোটের সময় কর্মী-সমর্থকদের হাতখরচ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু মমেনা বেগম এলাকায় না থেকে অহেতুক নেতৃত্ব দেখিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন। বিষয়টি না বুঝেই তারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।”

তবে ভোটারদের টাকা দেয়া ও কর্মীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।