ছেলেকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, খবর শুনে স্ট্রোক করে মায়ের মৃত্যু

আতা মিয়া অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ ছিলেন। বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইকারীরা ভাড়ার কথা বলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে এবং অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়েছে।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
নিহত অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান আতা
নিহত অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান আতা |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আতাউর রহমান আতা (৬০) নামে এক চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ছেলে আতার মৃত্যুর খবর শুনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তার বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুনও (৭৫) স্ট্রোক করে মারা যান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতুলী এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাতে মির্জানগর শিমুলতলী এলাকায় সড়কের পাশে আতাউর রহমানকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের আত্মীয় মোস্তফা আকন্দ জানান, আতা মিয়া অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ ছিলেন। বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইকারীরা ভাড়ার কথা বলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে এবং অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়েছে।

প্রথমে ঘটনাস্থলের স্থানীয়রা অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবেই ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকেন। কিন্তু পরে ফেসবুক পোস্টে নিহতের ছবি দেখে নিহতের ভায়রার ছেলে মাসুদ রানা নিশ্চিত হন এটা তার খালুর ছবি। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা আতাউর রহমানের অটোরিকশায় উঠে। পরে তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যার পর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে আতাউর রহমানের বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুনও মৃত্যুবরণ করেন। মা-ছেলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। তাদের দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের আটক করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চারজনকে আটক করে বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। হত্যার কারণ, কারা জড়িত এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি-না— সব বিষয় গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে আরো কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।