বগুড়া অফিস
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মিছিল করেছেন। এ মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়াসহ স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহরের সরকারি মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল চত্বর থেকে জাতীয়তাবাদী ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে এ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সরকারি চাকরিবিধি ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি চাকরিজীবী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। সেই হিসেবে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একজন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মিছিলে অংশ নেয়া নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙঘন।
জানা যায়, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার পক্ষে ভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই মিছিলটি আয়োজন করা হয়। মিছিলটি মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে, শেরপুর রোড হয়ে বগুড়া শহরের সাতমাথা ঘুরে আবারো মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে সরকারি হাসপাতালের চাকরিজীবীদের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের (শজিমেক) নাক-কান-গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: আব্দুল ওয়াহেদ, এনেস্থেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন হায়দার রাসেল, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অফিস সহকারী মো: রেজাউল করিম, অফিস সহায়ক তরু ও লয়া মিয়া, গাড়িচালক জাহিদুলসহ শজিমেক ও মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
মিছিলটির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স বলেন, বদলি ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি মিছিলে যোগ দিতে আমাদের বাধ্য করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা কোনো রাজনৈতিক দলের বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। এটা চাকরিবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



