বরিশালের উজিরপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখলের হিড়িক পড়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জয়শ্রী টু শিকারপুর। নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী দোকানঘর। এ সুযোগে প্রভাবশালীরা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। যদিও দখলদাররা জানান, সরকার চাইলে জমি ছেড়ে দেবেন তারা। আর দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জয়শ্রী টু শিকারপুর ফেরিঘাটের আগে দখল করা হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি। যে যেভাবে পেরেছেন স্থায়ী ভবন করে দোকান তুলে দখলে নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, শিকারপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন বাজার এলাকা। এক প্রান্তে সরকারি জমি দখল করে তিনটির বেশি দোকানঘর নির্মাণ করায় ক্ষুব্ধ তারা।
বিক্ষুব্ধরা জানায়, দেশে যদি আইন থাকে তাহলে কিছু মানুষ ঠিক হতে ২৪ ঘণ্টা লাগে না। এক মিনিটেই তারা ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।
নাম প্রকাশে অনিশ্চিত স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এসব দখলদারদের বিষয়ে সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে নজর দিতে হবে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয়েছে। অথচ, বিষয়গুলো এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রভাবশালী মহাতাব শিকদার, আব্দুল জলিল হাওলাদার ও মনির হাওলাদার। নির্মাণাধীন দোকানঘরগুলোর পেছনেই আব্দুল জলিল হাওলাদারের বাড়ি।
দখলের বিষয় আব্দুল জলিল হাওলাদার বলেন, ‘সরকার চাইলে জমি ছেড়ে দেবো। আশপাশ দেখেই দোকানঘর নির্মাণ শুরু করি।’
মাহাতাব সিকদার বলেন, ‘জলিল করেছে বিধায় আমি ঘর করেছি। আর কিছু না।’
আবার কারোর দাবি, এটা তাদের বাপ-দাদার জায়গা। সরকার নিজের জায়গা বললেও এ বাবদ তাদের কোনো টাকা দেয়নি।
মনির হাওলাদার বলেন, ‘সরকার যেকোনো সময় যদি ভেঙে নিতে নোটিশ দেয়, আমরা ঘর ভেঙে নিয়ে যেতে প্রস্তুত আছি।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ‘দখলদারদের চিহ্নিত করে সওজ ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান হবে।’
সওজ, সড়ক বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখবো না। সড়ক ও জনপদের জমি হলে খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



