চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার প্রধান সহকারী মোহাম্মদ উল্লাহ (নিপু) গত দুই বছর ধরে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন। এমন অভিযোগে অফিসপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদ উল্লাহ (নিপু) ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট ছেংগারচর পৌরসভায় যোগদান করেন। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নিপুকে আর পৌর কার্যালয়ে দেখা যায়নি।
কিন্তু রহস্যজনকভাবে প্রতি মাসেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে সরকারি বেতন ও ভাতার টাকা। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও কিভাবে একজন কর্মকর্তা মাসের পর মাস বেতন তুলছেন, তা নিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভার হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাঝে মধ্যে নিপুর নামের পাশে উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও সহকর্মীদের দাবি সেই স্বাক্ষর নিপুর নিজের নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে জনৈক চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী নিপুর হয়ে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে হাজিরা নিয়মিত রাখছেন। অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় এমন জালিয়াতি রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধানের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মোহাম্মদ উল্লাহ নিপু একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়েছেন। দলীয় প্রভাবের কারণে তাকে নিয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করতেন। সেই দাপটের রেশ ধরে এখনো তিনি কর্মস্থলে না এসেও অসাধু উপায়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য করে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে। এছাড়া কাজ না করে বেতন উত্তোলন করা দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৯ ধারা অনুযায়ী প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল। এই বিশাল অঙ্কের সরকারি অর্থ কিভাবে ও কার মদদে নিপুর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পৌরসভার প্রধান সহকারী মোহাম্মদ উল্লাহ (নিপু) বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি অসুস্থ, নানান রোগে জর্জরিত। সে কারণে নিয়মিত অফিসে আসতে পারি না।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক (নির্বাহী কর্মকর্তা) মাহমুদা কুলসুম মনি নয়া দিগন্তকে বলেন, পৌর প্রধান সহকারী কেন নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকছেন না, সে বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



