নিভৃত টুনির চরের ছিন্নমূল পরিবারের বাসিন্দা রাজু আকন্দ (৪০)। একসময় তার বাপ-দাদার রেখে যাওয়া পাঁচ শতক জমিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু রাক্ষুসী ঘাঘট নদী ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে সেই বসতভিটা। এখন নদীর কিনার ঘেঁসা আধা শতক পৈতৃক ভিটার ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছেন তিনি।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর মন্দুয়ার গ্রামের টুনির চর নামক স্থানে দেখা গেছে রাজু আকন্দের জরাজীর্ণ বসবাসের এক করুণ দৃশ্য। যেকোনো মুহূর্তে তার একমাত্র সম্বল ছোট্ট ঘরটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলছেন, ওই গ্রামের মরহুম লিয়াকত আকন্দের ছেলে রাজু আকন্দ পেশায় একজন দিনমজুর। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে দুর্বীষহ জীবনযাপন করছেন তিনি। একদিন শ্রম বিক্রি না করলে পেটে অন্ন জোটে না পরিবারে সদস্যদের। একেবারই যেনো নুন আন্তে পান্থা ফুরায় অবস্থা।
তপ্ত রোদ-বৃষ্টি আর শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে নদীর কিনারের একমাত্র ছাপড়া ঘরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে পরিবারটি। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। নদীভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে রাজু ও তার পরিবারের সদস্যদের। পরিবারটি এতোটাই হতদরিদ্র যে, তাদের নেই কোনো টিউবয়েল ও টয়লেট ব্যবস্থা। এসব চাহিদা পূরণ করতে হয় অন্যের বাড়িতে। সেখানে সহ্য করতে হয় নানা বঞ্চনা। এভাবে নদীর সাথে সংগ্রাম করে কোনোমতে বেঁচে আছে হতদরিদ্র পরিবারটি। এখন সরকারের কাছে মাথার গোঁজার ঠাঁই চাচ্ছে দরিদ্র পরিবারটি।
স্থানীয় শাহআলম আকন্দ বলেন, ঘাঘট নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে এখানকার অনেক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। এখন রাজু আকন্দসহ বেশ কিছু পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে আছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা করা জরুরি।
ভুক্তভোগী রাজু আকন্দ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাপের সব জমি নদীতে হারিয়ে এখন আধা শতক জমিতে ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছি। এটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে। ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। এখন সরকারের কোনো গুচ্ছগ্রামে বা খাস জমিতে আমাকে পূর্ণবাসনের দাবি করছি।’
এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, টুনির চর এলাকার অনেক পরিবারই সর্বহারা হয়েছে। রাজুকে পুরাতন কোনো গুচ্ছগ্রামে বা খাস জমিতে পূর্ণবাসনের চেষ্টা করা হবে।



