নাটোরের নলডাঙ্গায় নেট পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছেন এক কৃষক। এতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত বেগুন চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
মশারির আদলে বিশেষ নেট ব্যবহার করে কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছেন উপজেলার ঠাকুরলক্ষীকোল (সোনার মোড়) গ্রামের সবজি চাষি মো: শহিদুল ইসলাম।
এই পদ্ধতিতে পুরো খেতের চারপাশ ও উপরভাগ মশারি বা নাইলন নেট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। বেগুনের প্রধান শত্রু হলো ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। নেট ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতিকারক পোকা গাছের সংস্পর্শে আসতে পারে না, যার ফলে কোনো কীটনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন হয় না। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন বেড়েছে দ্বিগুণ, যা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। একবার নেট স্থাপন করলে তা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও বেগুন গাছে খুব একটা পড়ে না।
সবজি চাষি মো: শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি মূলত বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকেন। বেগুনে অতিরিক্ত পোকা, শ্রম, খরচ ও কীটনাশক ব্যবহারের ঝামেলার কারণে একসময় বেগুন চাষ করা থেকে বিরত ছিলেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে ১১ শতক জমিতে নেট পদ্ধতিতে বেগুন চাষ শুরু করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন ও লাভ দুটোই বেড়েছে। বাজারে এই বেগুনের চাহিদা ও মূল্যও তুলনামূলক বেশি। তিনি ভবিষ্যতে অন্যান্য সবজি চাষেও এ পদ্ধতি অনুসরণের করবেন।
স্থানীয় কৃষক ও বেগুনের আড়ৎদাররা জানায়, বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই বেগুনের স্বাদ ভালো এবং বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। উন্নতমানের দাগহীন, বিষমুক্ত হওয়ার ফলে বাজারে বেগুনের চাহিদা রয়েছে। নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি না থাকায় দূর দূরান্তে পাঠানো যায়।
নিরাপদ সবজি উৎপাদনের স্বার্থে নেট পদ্ধতিতে সবজি চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানায় তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: সবুজ আলী বলেন, ‘উপজেলায় প্রথমবারের মতো সবজি চাষি মো: শহিদুল ইসলামকে ১১ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মশারির আদলে নেট ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত বেগুন চাষের পরামর্শ দেয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় উৎপাদন খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ফলনও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় এই বেগুনের বাজার চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি দেখে উপজেলার অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং কৃষি অফিসে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন। সকল সবজি চাষে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছেন।’



