বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার ২ মাসেও সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। সরকার বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। লুটেরাদের ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবার লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সিলেট মহানগর জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার জামায়াতের ওপর সীমাহীন জুলুম নিপীড়ন চালিয়েছে। আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে শহীদ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম নিপীড়ন উপেক্ষা করে আর্ত মানবতার কল্যাণে জামায়াত সব সময় জনগণের পাশে ছিল। তাই গত নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোট দিয়ে জামায়াতকে বিজয়ী করতে কাজ করেছে। আমাদের সেই বিজয়কে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখজনক। ওই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে বাতিলের মাধ্যমে সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলী দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। এদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো স্বপ্ন পূরণ হবে না।’
নগরীর বন্দরবাজারস্থ মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য, শূরা সদস্য ও সকল থানা দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তবে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানবতার কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সর্বাগ্রে এটিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সামাজিক কর্মকাণ্ডে তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। গত জাতীয় নির্বাচন জনগণ জামায়াতকে বিপুল ভোট দিয়েছে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। ইসলামী আন্দোলনে শামিল করতে হবে। তাহলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে পারবে। দেশ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী দূর করা হবে। জামায়াতের দায়িত্বশীলদেরকে দুনিয়াবী স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে পরকালীন মুক্তির পথকে প্রাধান্য দিতে হবে। দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আমানতদারিতার ও ত্যাগের পরাকাষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাইকে উপেক্ষা করে জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। জামায়াতে ইসলামী জুলাই আকাঙ্খাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ চালিয়ে যাবে। জামায়াতের সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদেরকে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।



