ক্ষোভে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়লেন বিএনপি সমর্থক

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, ‘আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি বিএনপির কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি বহন করবে না।’

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
আব্দুল জলিল তোতা
আব্দুল জলিল তোতা |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটায় নিজের দলের নেতা কর্তৃক শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারি হত্যাকাণ্ড এবং পূর্বে স্বজন হত্যার বিচার না পাওয়ার অভিযোগে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল জলিল তোতা।

‎বৃহস্পতিবার উপজেলার বোনারপাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।

‎আব্দুল জলিল উপজেলার বোনারপাড়ার মরহুম আবু বক্করের ছেলে।

আব্দুল জলিলের দাবি, বার বার স্বজন হারিয়েও বিচার না পাওয়ায় তিনি রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। তিনি আর কোনো দল করবেন না।‎

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জলিল ৫ আগষ্টের পর থেকে প্রথমে বিএনপির সমর্থক ও পরে বিএনপির কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন এবং একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্বে ছিলেন।

‎আব্দুল জলিল দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাত ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট বছরেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। আবার গত ২১ জুন আমার মামাত ভাই ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও হত্যা করা হয়। এ ঘটনার বিচার পাবো কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানো এবং বিচারহীনতার অভিজ্ঞতা আমাকে হতাশ করেছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চাই।’

‎তিনি আরো বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায় বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’ তবে আব্দুল জলিলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বিএনপি।

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, ‘আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি বিএনপির কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি বহন করবে না।’

‎উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।