ফেনীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্র নাশিতকে (১০) হত্যার পর লাশ গুমের মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে হত্যা মামলায় এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, লাশ গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
অপরদিকে অপহরণের অপরাধে দু’জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— আশ্রাফ হোসেন চৌধুরী তুষার, মোবারক হোসেন প্রকাশ ওয়াসি ও ওমর ফারুক রিপাত।
অন্যদিকে, নিহত নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সাথে ফেনী পৌরসভার অ্যাকাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের অ্যাকাডেমি এলাকায় আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে জুসের সাথে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
একপর্যায়ে নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ রেললাইনের পাশের ডোবায় ফেলে দেয় তারা। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে সেজন্য ওই শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে পানিতে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ পরদিন ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দু’ দিন ধরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে নাশিতের বাবাকে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে নিহতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরকে সন্দেহের কথা জানান।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে তুষারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হলে তার দেয়া তথ্যমতে শহরতলীর দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুল ব্যাগসহ লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নাশিতকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি ও পরে হত্যা করে লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ উল্লেখিত তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডাদেশ প্রদান করে।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খাঁন ও মামলার বাদী মাঈন উদ্দিন সোহাগ। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।



