রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় মো: আলাউদ্দিন (৫৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাঁকোয়া ঈদগাহ বড় মসজিদে তারাবির নামাজের আগে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগ নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য উভয়পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা নাম প্রস্তাব করা হয়।
এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে আলাউদ্দিনসহ অন্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে গুরুতর আহত আলাউদ্দিনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে রোববার (৮ মার্চ) বাদ আসর নিহতের জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, আবদুল বারী সরদার এমপি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী মহানগর ও জেলা জামায়াতের প্রতিবাদ, বিবৃতি
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মো: আলাউদ্দিনকে নৃশংস ও বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির রাজশাহী মহানগর ও জেলা নেতৃবৃন্দ। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর আমির মাওলানা ড. কেরামত আলী ও সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল এবং রাজশাহী জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক ও সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মো: আলাউদ্দিন (৫৫)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতা মো: ওমর ও রাইসুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে এবং পায়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস, অমানবিক ও কাপুরুষোচিত। একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের বর্বর হামলা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মোহনপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের (যারা জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন) বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই অংশ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এটি একটি ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা।
এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেয়ার পরও বিএনপি বাস্তবে খুন ও সহিংসতার রাজনীতি শুরু করেছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু দুষ্কৃতিকারী এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে এ ধরনের দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মো: ওমর ও রাইসুলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
একইসাথে তারা এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।



