নাব্যতা সঙ্কট, দখল-দূষণে মরে যাচ্ছে কেন্দুয়ার খাল-নদ-নদী

নাব্যতা সঙ্কট, দখল আর দূষণে মরে যাচ্ছে কেন্দুয়ার খাল-নদনদী সমূহ। মরে যাওয়ার পেছনে অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রিজ নির্মাণও দায়ী কম নয়। ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে কৃষি প্রধান কেন্দুয়া উপজেলার খাল,নদ-নদী নির্ভর কৃষি কাজ ও ব্যবসা বাণিজ্য। জনমনে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। সরকারি তথ্যানুযায়ী কেন্দুয়ায় ৪টি নদী ও ১৩টি খাল রয়েছে।

নাব্যতা সঙ্কট, দখল-দূষণে মরে যাচ্ছে কেন্দুয়ার খাল-নদ-নদী
নাব্যতা সঙ্কট, দখল-দূষণে মরে যাচ্ছে কেন্দুয়ার খাল-নদ-নদী |নয়া দিগন্ত

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নাব্যতা সঙ্কট, দখল আর দূষণে মরে যাচ্ছে কেন্দুয়ার খাল-নদনদী সমূহ। মরে যাওয়ার পেছনে অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রিজ নির্মাণও দায়ী কম নয়। ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে কৃষি প্রধান কেন্দুয়া উপজেলার খাল,নদ-নদী নির্ভর কৃষি কাজ ও ব্যবসা বাণিজ্য। জনমনে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। সরকারি তথ্যানুযায়ী কেন্দুয়ায় ৪টি নদী ও ১৩টি খাল রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়- সংস্কারের অভাবে ভেঙ্গে গেছে খাল, নদ-নদীসমূহের তীর। ড্রেজিংয়ের অভাবে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে খাল, নদনদীর বেশিরভাগ অংশ। দখলে নির্মাণ আর সুবিধামত করা হচ্ছে ব্যবহার। দূষণে বিপর্যয় পরিবেশ। শুকিয়ে কঙ্কাল। মরা খালে পরিণত নদ-নদী সমূহ। খালগুলোর চিহ্ন আছে কি নেই এমন অবস্থা। হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের স্রোতমোহনী এসব জলধারা কেন্দুয়ার মানচিত্র থেকে। নদীর বুকে চাষ হচ্ছে ধান, সবজি। মানুষ হেঁটে পার হচ্ছে নদী। গরু চড়ে খাচ্ছে ঘাস। শিশুরা খেলছে নানা খেলা। অথচ এক সময় সারা বছর বুক ভরা ছিল অথৈই জল। স্রোতের শব্দে খাল, নদী পাড়ের মানুষ ঠিকমত ঘুমাতে পারত না। পাওয়া যেত প্রচুর মাছ। জেলেদের জীবিকার প্রধান মাধ্যম ছিল খাল,নদ-নদীসমূহ। সেচ মাধ্যমে স্বল্প খরচে কৃষকরা ফলাতো প্রচুর ফসল। নদী পাড়ে ছিল হাট- বাজার। চলত ছোট-বড় নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ। জলপথে হত প্রচুর ব্যবসা-বাণিজ্য। এখন আর এসব দৃশ্য চোখে পড়ে না। জেলেরা অনেকেই পেশা বদলিয়েছেন। আবার অনেক জেলে বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখলেও দিনাতিপাত করছেন অন্য পেশার সমন্বয়ে। কৃষকরা প্রচুর খরচ করে বিকল্প মাধ্যমে করছেন কৃষিকাজ। নাই হাট বাজার। নাই ব্যবসা বাণিজ্য। চোখে পড়ে না জলযান। আর এসমস্তের জন্য দায়ী নাব্যতা সঙ্কট, দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রিজ নির্মাণ। কেন্দুয়ার এক সময়ের প্রমত্তা খরস্রোতা প্রতিটি খাল, নদনদী মৃত্যুর সাথে লড়ছে।

আজ সত্যিই প্রমাণিত হল ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা -

‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।পার হয়ে যায় গরু,পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।

এব্যাপারে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাখাওয়াত হোসেন বলেন- সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রিফাতুল ইসলাম বলেন- কেন্দুয়ার খাল, নদনদী সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভালো কিছু হবে।