ইজারার নামে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে এবং এর প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শত শত কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই নৌযান ধর্মঘট পালন করছে।
ঘাটগুলো হলো—পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ (কামালপুর), উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ঘাট, উপজেলা খাস কালেকশন (কুটগাড়ি) ও আর. কাটি ঘাট; অপরদিকে যাদুকাটা নদীতে ঘাগড়া ঘাট, ফাজিলপুর টোল ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে টোল আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই দুটি নদীতে যেসকল ঘাটের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব বা মিল নেই। সাধারণত ঘাট বলতে বোঝায় যেখান দিয়ে মালামাল ওঠানামা করা হয়, কিন্তু এসব ঘাট দিয়ে কোনো মালামাল ওঠানামা করা হয় না।
এছাড়াও ঘাটগুলো কত টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই এবং প্রশাসনও এ বিষয়ে তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খাস কালেকশনের নামে কীভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে এবং কারা তা নিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শত শত নৌ-শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতে করে একদিকে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও নৌযান মালিকরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন।
শুধু বিএনপি নেতাই নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও প্রতিটি ঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ তুলছেন।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (২ ও ৩ জুলাই) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি, নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন এবং জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএ-এর ইজারাদার নাসির মিয়া জানান, ‘বিআইডব্লিউটিএ থেকেই আমাকে প্রতি টনে ৭০ টাকা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং এর কাগজও রয়েছে। আমরা তো বেশি নিচ্ছি না; ৭০ টাকার বেশি নিলে কথা ছিল।’
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মেহেদী হাসান মানিক জানান, অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে ইজারাদাররা বেশি টাকা নিচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর সিলেট আঞ্চলিক দফতরের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে সারা বাংলাদেশের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-এর টোল আদায়ের হার প্রতি টনে ৭০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।



