ভারতের দিল্লীতে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বিশেষ করে আসামের গুয়াহাটি মিশনসহ আমাদের সবক’টি কূটনৈতিক মিশন আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়ন অনেকটা এগিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সিলেটের তামাবিল-ডাউকি স্থলবন্দর কনফারেন্স হলে স্থানীয় প্রশাসন, তামাবিলের ব্যবসায়ী ও সুধীজনের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাই কমিশনার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আসামের গুয়াহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার (মিশন প্রধান) মুহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো: মোস্তাফিজুর রহমান, ৪৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুয়ীদ আহমদ, তামাবিল কাস্টমস সহকারী কমিশনার রাসেল আহমদ, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নুর আলম সিদ্দিক, তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ (ইনচার্জ) শামীম আহমদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি নূরুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি রিয়াজ হামিদুল্লাহ আরো বলেন, আসামের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, পযর্টন শিল্পের উন্নয়ন এবং সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের মিশনগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আসামসহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যের মানুষের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা তামাবিল স্থলবন্দেরর বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাথর আমদানিতে কারাভাস বৃদ্ধি, বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের জন্য ভারতীয় বাণিজ্য ভিসা চালু করাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে রফতানির বিষয়ে হাই কমিশনের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় অন্যান্য বক্তাগণ তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি ও তা স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় জানানো হয়, তামাবিল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের আমদানি-রফতানি করা মালামাল মজুদ রাখা ও পরিবহন সুবিধায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে।
সভায় ‘ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে’ উল্লেখ করে বক্তারা দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভারত মিশনের সহায়তা কামনা করেন।
সিলেটের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ এবং ভারতীয় পর্যটক আগমনে কাজ করা প্রয়োজন বলে মতামত ব্যক্ত করা হয় এ সময়।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামসহ সেভেন সিস্টারসের সাথে রফতানিমুখী ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
সভায় তামাবিল পাথর আমদানীকারক গ্রুপের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম শাহপরান, আব্দুল মান্নান, ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, ওমর ফারুক, আব্দুল করিম রাসেল, ইসমাইল হোসেন, মিছবাউল আম্বিয়া, মাফিজুল ইসলাম ও সিলেট কয়লা আমদানীকারক সমিতির সদস্য সৈয়দ শামীম আহমদ।
এ সময় তামাবিল স্থলবন্দরের অন্যান্য স্টেক হোল্ডার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে হাই কমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত তামাবিল বধ্যভূমি পরিদর্শন করেন। বিকেল ৫টায় দিল্লির হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ডাউকি স্থলবন্দরে ভারতীয় মেঘালয়ের ব্যবসায়ীদের সাথে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।



