নড়াইলে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ভুক্তভোগীর সম্মেলন

অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুপক্ষের কথাবার্তা চলছিল। সরেজমিন গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নড়াইল প্রতিনিধি

Location :

Narail
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান |নয়া দিগন্ত

নড়াইলের লোহাগড়া নাজিম উদ্দিন দেওয়ান (৭১) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করেন, বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন।

নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে টেনে-হেঁচড়ে ও কিল-ঘুসি দিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তার উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যান।

তিনি জানান, এ সময় অভিযুক্তরা তার ছেলে সৌরভ দেওয়ান ও আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে তার মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংক চেক দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এছাড়া অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে তিনটি একশত টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন।

তিনি জানান, পরে তার ছেলে সৌরভ অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল পুলিশের একটি দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইলফোন ফেরত দিলেও, তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া একশত টাকার তিনটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমি ফেরত দেননি।

ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, স্ট্যাম্প ও ডেমি দুটি ফেরত না পেলে অভিযুক্তরা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র তৈরি করে তার নামে মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনটি স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর জন্য অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরে গত ১৪ জুলাই আরো দেড় লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনিকে দেয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার পর সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও অভিযুক্ত সেই টাকা ফেরত দেননি। এরপর গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইমরানসহ অভিযুক্তরা বলেন, ‘নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ আমাদের বিরুদ্ধে যেই সব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। এসব ঘটনার সাথে আমরা জড়িত নই।’

অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুপক্ষের কথাবার্তা চলছিল। সরেজমিন গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।