বিপুল পরিমাণ ঘাটতি নিয়ে শেষ হলে চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন

রোববার (১৮ মে) থেকে লবণ উৎপাদন মৌসুম সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Chattogram
উৎপাদিত লবণের স্তুপ
উৎপাদিত লবণের স্তুপ |নয়া দিগন্ত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমেও (২০২৪-২৫) বিপুল পরিমাণ ঘাটতি নিয়ে সমাপ্ত হলো মৌসুমের লবণ উৎপাদন।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে যোগাযোগ করা হলে বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার জাফর ইকবাল ভূঁইয়া নয়া দিগন্তকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রোববার (১৮ মে) থেকে লবণ উৎপাদন মৌসুম সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেশে ২৬ লাখ ১০ হাজার টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার বিপরীতে লবণ উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ টন লবণ উৎপাদন হয়। সে ক্ষেত্রে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে ৩৫৮ হাজার ৩৪৯ টন লবণ উৎপাদন কম হয়। চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামের বাঁশখালী আনোয়ারা পটিয়া এবং কক্সবাজার জেলায় এবার ৬৩ হাজার ১৯৮ একর জমিতে লবণ চাষ হয়। অন্যদিকে এবার ৪১ হাজার ৩৫৫ চাষি লবণ চাষ করেন।

সূত্রে আরো জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদন শুরু হওয়া থেকেই চাষিরা পাইকারি লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে গড়ে ৩৫০ টাকার উপরে খরচ পড়লেও চাষিরা গড়ে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকার উপরে লবণ বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনেছেন। চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা করা হয়েছিল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যওয়ার কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

গত মৌসুমেও বৈরী আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ২৫ মে পর্যন্ত ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ টন লবণ উৎপাদন হয়েছিল। যা ছিল লবণ উৎপাদনের ৬৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনের রেকর্ড। গত মৌসুমে লবণ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। ওই হিসেবে ওই (২০২৩-২৪) মৌসুমে ৯০ হাজার ১১০ টন উৎপাদন ঘাটতি নিয়ে লবণ উৎপাদন মৌসুম শেষ হয়েছিল।

একইভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২০২২-২৩ লবণ উৎপাদন মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ লাখ ৫০ হাজার টন। তার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ টন। একইভাবে ২০২১-২২ লবণ উৎপাদন মৌসুম লবণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টন। কিন্তু তার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার টন।

জানা গেছে, লবণ উৎপাদনের অফিসিয়ালি সময় ১৫ নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ১৫ মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদন মৌসুম ধরা হয়। তার পরেও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সে মাসজুড়েই লবণ উৎপাদন হয়।

চলতি মৌসুমে (২০২৪-২৫) সর্বক্ষেত্রে লবণের চাহিদা নিরুপণ করা হয়েছে ভোজ্য ৮ দশমিক ৮৫টন, শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৯২টন, মৎস্য খাতে ০ দশমিক ৩৯টন, প্রাণীসম্পদ খাতে ৩ দশমিক ৫০টনসহ ২১ লাখ ৬৭ হাজার টন।

চাহিদার ও পরিমাণ পরিশোধন ঘাটতিসহ এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬ লাখ ১০ হাজার টন।

জানা গেছে, দেশে শিল্পকারখানায় সোডিয়াম সালফেট প্রয়োজন রয়েছে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন। অথচ দেশে সোডিয়াম সালফেট উৎপাদন হয় না। অন্যদিকে শিল্পকারখানায় সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হয়। বিশেষ করে সোডিয়াম ক্লোরাইড থেকে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ক্যামিকেল তৈরী করা হয়। যা দেশে উৎপাদিত লবণ থেকে হয় না। তার কারণে হিসাবে বলা হয় দেশে উৎপাদিত সোডিয়াম ক্লোরাইডের গুণগত মান ভালো না হওয়ায় শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য ক্যামিকেল তৈরী করতে দেশে উৎপাদিত সোডিয়াম ক্লোরাইডের অপচয় বেশি হয়। এসব কারণে সরকার বিশেষ করে সোডিয়াম সালফেট ও বিদেশে উৎপাদিত সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানির সুযোগ দেন। আর ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমদানিকারকরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড আমাদানি করে অনায়েশেই তা বাজারজাত করছে। এ কারণে এবার বাজারে পাইকারি লবণের দাম অতিরিক্ত হ্রাস পায়।

বিগত কয়েক বছর ধরে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে শর্তক থাকায় পাইকারি বাজারে গত মৌসুমের শেষ দিনেও ধোলাই খরচ ছাড়াই গড়ে সাড়ে ৩০০ টাকা লবণ বিক্রি করতে পেরেছিলেন চাষিরা। আর এ মৌসুমে লবণ উৎপাদনের শেষ দিনেও বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ মাত্র ২৭০ টাকা।