নওগাঁর মান্দায় বসতবাড়ি কেনার পর চাঁদা না দেয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠা সারওয়ার জাহান উজ্জল প্রামাণিক (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) তার মৃত্যু হয়।
হত্যার শিকার উজ্জল নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের চকভোলাই গ্রামের কছিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে উজ্জল একই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বসতবাড়ি কিনেছিলেন। বাড়িটি কেনার পর থেকে কালীগ্রাম গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রাজু আহমেদ (৫০) ও তার সহযোগীরা উজ্জলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২২ মার্চ দুপুরে তাকে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পেছনে নিয়ে মারধর করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্য রাজু ও শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি উজ্জলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়।
এ ঘটনায় উজ্জলের স্ত্রী সাথী আক্তার রাজুসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা করেন।
সাথী আক্তার জানান, হামলার পর তার স্বামীকে দীর্ঘদিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর আবার তাকে আবার রামেকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।’
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনায় করা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মারধরের কারণে উজ্জলের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে এ ঘটনায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হবে।’



