মানিকগঞ্জে পদ্মা-যমুনার তীব্র নদী ভাঙন, হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বাজার

‘আমাদের ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার মধ্যে ১২টিই নদীগর্ভে চলে গেছে। এ বছরও নতুন করে ১২-১৩টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। স্থায়ী নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে এক সময় পুরো ইউনিয়নই হারিয়ে যাবে।’

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
নদী ভাঙন
নদী ভাঙন |নয়া দিগন্ত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও গাছপালা।

ভাঙনের মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নদীতীরবর্তী হাজারো পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদরাসা, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে এসব প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের বহু বসতবাড়ি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নেও ভাঙনের চিত্র উদ্বেগজনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার মধ্যে ১২টিই ইতোমধ্যে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষায় নতুন করে একাধিক বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, হরিরাঘাট উত্তর পাটগ্রাম ও কাঞ্চনপুরের কুশিয়ারচর এলাকায়ও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে যমুনার শাখা নদী ও কালীগঙ্গা ঘিওর উপজেলার আশাপুর, সড়ক ঘাটা, কুস্তা, চর কুশুন্ডা, নকীববাড়ি এলাকায় অন্তত পাঁচ বিঘা ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েছে।

নকীববাড়ি গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, চলতি বছর পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র রুপ ধারণ করেছে। নদীর পার্শ্ববর্তী আমার এক বিঘা ফসলসহ জমি কালীগঙ্গা নদীতে চলে গেছে।

দৌলতপুরের বাঘুটিয়া এলাকার বাসিন্দা, আজিজ প্রামাণিক, সালেহীন মোমিন বলেন, নদীর পানি দ্রুত বাড়ার সাথে সাথে প্রতিদিনই বড় বড় অংশ ভেঙে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ঘরবাড়ি রক্ষা নিয়ে মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

হরিরামপুরের কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক গাজী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার মধ্যে ১২টিই নদীগর্ভে চলে গেছে। এ বছরও নতুন করে ১২-১৩টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। স্থায়ী নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে এক সময় পুরো ইউনিয়নই হারিয়ে যাবে।’

এদিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে শিবালয় ও ঘিওরের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আক্তারুজ্জামান জানান, শিবালয়ের পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন বরুরিয়া এলাকায় ৩৫০ মিটার, স্যোশাল প্যান্ড এলাকায় ৩০০ মিটার ও ঘিওরের কুস্তা এলাকায় ১২০ মিটারজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তবে নদীতীরবর্তী মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদী শাসনের অভাবে দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে তবেই ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও হাজারো মানুষের বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।