কক্সবাজারে বন্যার রেশ না কাটতেই তীব্র নদী ভাঙন, বিলীন হচ্ছে জমি-ঘরবাড়ি

বর্তমানে মাতামুহুরি নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীর লাগোয়া ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক বসতবাড়ি। পাশাপাশি পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় নদী ভাঙন তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তীর লাগোয়া জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

রফিক আহমদ, চকরিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Cox's Bazar
তীব্র নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট
তীব্র নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট |নয়া দিগন্ত

সম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরি ও পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই মাতামুহুরি নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। চকরিয়া পৌর এলাকার কোচপাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব চিত্র দেখা যায়।

চলতি বর্ষার মৌসুমে টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে জেলার তিন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই রেশ কেটে না উঠতে না উঠতেই মাতামুহুরি নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের তীব্রতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে মাতামুহুরি নদীর স্রোতে মহেশখালী চ্যানেলের মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী থেকে বাগগুজারা ব্রিজ রোডের উজানটিয়া করিয়ারদিয়া ঘাটঘর এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৩০ ফুট জায়গা।

শিগগিরই ব্লক অথবা জিও ব্যাগ দিয়ে সংস্কার না করলে রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ বদরখালীর ৭০ হাজার জনগোষ্ঠীর বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে চকরিয়ার সুরাজ-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ান, কাকারা, পৌরসভার কোচপাড়াসহ মাতামুহুরি উপজেলার কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নদীর তীর এলাকায় বাঁধের ঢাল ও নদীর তীর ভাঙনে জনগুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধসহ বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বর্তমানে মাতামুহুরি নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীর লাগোয়া ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক বসতবাড়ি। পাশাপাশি পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় নদী ভাঙন তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তীর লাগোয়া জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ও রাজাখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার তাণ্ডবে বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। মরনঘোনা এলাকায় মাতামুহুরি নদীর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী, মরংঘোনা ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া অংশে মাতামুহুরি নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করেছেন।

বাঁধের মেরামত করা না হলে চকরিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট ও কয়েক শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার বিস্তৃত বেড়িবাঁধ ও মাতামুহুরি নদীর ভাঙনের বিষয়টি পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছে কক্সবাজার ও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো: শফিকুল ইসলাম।