কুমিল্লার চান্দিনায় নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদ্য বিলুপ্ত চান্দিনা উপজেলা কমিটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, ‘২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম। তখন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির নেতারা আমার বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। তারা প্রকৃত পক্ষে বিএনপি নয়।’
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চান্দিনা উপজেলার মাইজখারে এএমএফ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। আমরা তখন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) ছিলাম। ২০১২ সাল থেকে বিএনপির সাথে ২০ দলীয় জোট করে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে স্বৈরাচার বিরোধী সব আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। ২০১৪ সালের পাতানো নির্বাচনে আওয়ামী জোটের ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণকে সচেতন করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সেই নির্বাচনে রাতে ভোট করার মাধ্যমে সরকার ও চান্দিনার তৎকালীন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরোধিতায় আমি পরাজিত হই। বিএনপির ওই সব নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা এখন বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কলস প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করছে।’
তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আমরা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি জেল খেটেছি। সেই সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তখন আমি লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গুলি করে আত্মরক্ষা করেছিলাম। অনেকেই আজকাল বড় বড় কথা বলে, কিন্তু তারা সেই আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের সময় কোথায় ছিল?’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যারা রাজাকার, আল শামস, আল বদর বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ ও আগুন দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতা আবদুল বারেকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম শামসুল হক মাস্টার, অধ্যক্ষ আবু তাহের, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন বশির, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুজ্জামান, উত্তর জেলা ছাত্রদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল আলম বাবু, উপজেলা মহিলা দল সহ-সভাপতি সুমাইয়া রহমান, মাইজখার ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কলস প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর দিনই দলের সব পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এর কয়েকদিন পর উপজেলা বিএনপির সব কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।



