চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের সির্ভিল সার্জন চিকিৎসক আ স মো মাহবুবুল আলম বলেছেন, ‘বাগেরহাটে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। এখানে ভালো ডিগ্রিধারী কোনো ডাক্তার আসতে চান না। আপনারা প্রমাণসহ অভিযোগ দেন আমি ব্যবস্থা নেব।’
রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে চিতলমারী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুঠোফোনে তিনি এ কথা বলেন।
চিতলমারী উপজেলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের তথ্যমতে, এ উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে হাতুড়ি চিকিৎসা কেন্দ্র। দুই লাখ মানুষের এ উপজেলার নিম্নআয়ের অধিকাংশ মানুষ স্বল্প খরচে চিকিৎসায় এই হাতুড়ি ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যক্তি নামের পাশে বাহারি ডিগ্রি ব্যবহার করে ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত করছেন। নিয়ম অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন না। এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকে বৈধতা ছাড়াই নিজেদের ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত চেম্বার চালানোর পাশাপাশি অনেকে মোবাইল ফোনে রোগী দেখছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও গৃহশিক্ষক নাঈম হাসান জানান, এই সব নামসর্বস্ব ডাক্তারদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব রয়েছে। এদের অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অসুস্থতা জটিল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ক্লিনিক ও দালাল চক্রের সাথে যোগসাজশে রোগীদের সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শর্মী রায় বলেন, ‘চিতলমারীতে কতজন পল্লী চিকিৎসক রয়েছেন তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা ডাটাবেজ আমাদের কাছে নেই। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ারও আমাদের নেই। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করব।’



