গজারিয়ায় আলুর বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

বাজারে নতুন আলুর দাম মাত্র আট থেকে ১০ টাকা কেজি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বস্তার দামও বেড়েছে।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Gazaria
আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা
আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কা করছেন তারা। মাঠে পাইকার না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে আলু কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আলু তোলার ব্যস্ততা চলছে। কৃষকেরা কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে নতুন আলু তুলছেন, কেউবা বস্তায় ভরছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম রোগবালাইয়ের কারণে এ বছর ফলন হয়েছে বেশ ভালো। ফলে অনেক জমিতেই দেখা যাচ্ছে নতুন আলুর স্তূপ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গজারিয়ায় প্রায় এক হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার ১৭০ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।

বাঘাইকান্দি এলাকার কৃষক মো: হানিফা বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে খরচই উঠছে না। জমিতে কোনো পাইকার না থাকায় বাধ্য হয়ে আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখতে হচ্ছে।’

আরেক কৃষক মো: আমিন উদ্দিন বলেন, ‘মাঠে কোনো ক্রেতা নেই। আলু বিক্রি করতে পারছি না। আট থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে বড় লোকসান হয়ে যাবে। সরকার যদি রফতানির ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা কিছুটা বাঁচতে পারতাম।’

স্থানীয় কৃষক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে ৩৫-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে নতুন আলুর দাম মাত্র আট থেকে ১০ টাকা কেজি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বস্তার দামও বেড়েছে। আগে যে বস্তা ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে প্রায় ৮৫ টাকায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, ‘পুরোনো বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন কমে যায়, তাই উন্নত বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও পাইকার সঙ্কটের কারণে কৃষকরা আলু বিক্রি করতে পারছেন না।’

কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে তারা আরো আগ্রহ নিয়ে আলু চাষ করবেন।