১৪৪ ধারায় শান্ত হবিগঞ্জ, মাঠে নামেনি বিএনপি-এনসিপি

১৪৪ ধারা কার্যকর হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবির সদস্যরা শহরে টহল দেন এবং পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

Location :

Habiganj

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারির পর বিএনপি ও এনসিপির কোনো পক্ষই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে মাঠে নামেনি। এতে বুধবার শহরে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার একই সময়ে হবিগঞ্জ শহরে পৃথকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি ও বিএনপি। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ বুধবার সকালে এক আদেশে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন।

আদেশে বলা হয়, উভয় পক্ষের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে জানমাল ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ সময় পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, মিছিল, মাইকিংসহ সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

১৪৪ ধারা কার্যকর হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবির সদস্যরা শহরে টহল দেন এবং পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে প্রকাশ্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এনসিপির দাবি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল এনসিপি। সমাবেশে দলের আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলও একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘১৪৪ ধারা জারির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ আইন অমান্য করার চেষ্টা করেনি। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’