গাজীপুরে হস্তান্তরের ৭ মাসেই ধসে পড়ল সুতি নদীর বাঁধ

চিনাশুকানিয়া গ্রামের কাছে নদীর পাড়ে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
ধসে পড়া বাঁধ
ধসে পড়া বাঁধ |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতি নদীর ডান পাড় ঘেঁষে নির্মিত রাজাবাড়ী-প্রহলাদপুর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ হস্তান্তর করার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। দুর্বল তদারকি ও যথাযথ ডাম্পিং না করাকেই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় নদীর তীরবর্তী শতাধিক পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্স। প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে হস্তান্তর করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিনাশুকানিয়া গ্রামের কাছে নদীর পাড়ে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া জানান, বাঁধ নির্মাণের সময় তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু মাত্র সাত মাসেই বাঁধ ধসে পড়ায় নিম্নমানের কাজের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত মেরামত না হলে নদীতীরের ঘরবাড়িও বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরেক বাসিন্দা রকিব মিয়া জানান, সড়ক নির্মাণের আগে নদীর তীর দ্রুত বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। ওই বালু যথাযথভাবে কম্প্যাক্ট না করেই ব্লক বসানো হয়, ফলে সংযোগস্থলগুলো খুলে যাচ্ছে। কাজের শুরুতে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাঁধের কিছু অংশ দেবে গেছে। একবার-দুইবার ভাঙলে ঠিক করে দেয়া হবে। এখনো তার দেড় কোটি টাকা পাওনা রয়েছে এবং জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকে বলেও তিনি জানান।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে ধসে যাওয়া অংশ পুনরায় নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, ঠিকাদারের জামানতের ১০ ভাগ অর্থ এখনো সরকারের কাছে রয়েছে এবং মেরামতের সম্পূর্ণ ব্যয় ঠিকাদারকেই বহন করতে হবে।

তদারকি দুর্বল ছিল বলে স্থানীয়দের যে অভিযোগ, তা তিনি নাকচ করে দেন।

Topics